ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
দিল্লিতে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় নয়া তথ্য। তদন্তকারী সূত্রের খবর, প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে রাস্তাতেই নিজের পোশাক বদলান অভিযুক্ত ক্যাবচালক। শুধু তা-ই নয়, গাড়িটিকে ভাল করে জল দিয়ে পরিষ্কারও করেন, যাতে ফরেনসিক পরীক্ষা হলেও কোনও প্রমাণ তদন্তকারীদের হাতে না আসে।
তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর প্রতিদিনের মতো আবার গাড়ি নিয়ে বার হন। যাত্রী তোলেন। তাঁদের গন্তব্যে নামিয়েও দেন। ক্যাবচালকের পুরনো অপরাধের রেকর্ডও রয়েছে বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। তাঁর বিরুদ্ধে বিহারের খাগাড়িয়ায় ২০১৫, ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০২২ সালে যৌন হেনস্থা, দাঙ্গায় উস্কানি দেওয়া এবং খুনের চেষ্টা-সহ পাঁচটি মামলা ঝুলছে। ঘটনাচক্রে, খাগাড়িয়ারই বাসিন্দা অভিযুক্ত ক্যাবচালক। বিহার পুলিশের সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করেছে দিল্লি পুলিশ।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, ক্যাবচালক দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে খাগাড়িয়ায় যে সব মামলা ঝুলছে, সবক’টি পারিবারিক এবং জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে। ক্যাবচালকের দাবি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযুক্তের এক জোড়া পোশাক উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার সময় এবং ঘটনার পরে ওই দু’টি পোশাক ব্যবহার করেছিলেন অভিযুক্ত। তদন্তকারী সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্ত চালককে গুরুগ্রামে গাড়ির মালিকের বাড়ির সামনে গাড়িটিকে পরিষ্কার করতে দেখা গিয়েছে ঘটনার কিছু পরেই। গাড়িটি ভাল করে পরিষ্কার করার পর গুরুগ্রামের চক্করপুর থেকে নাংলোই পর্যন্ত এক যাত্রীকে নিয়ে যান। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, জেরায় অভিযুক্ত দাবি করেছেন, যে জায়গায় শিশুটিকে ধর্ষণ করে খুন করেন, সেই রাস্তা এবং জায়গা তাঁর ভাল ভাবে চেনা। ক্যাবচালক হিসাবে কাজ করার আগে একটি আবাসনে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতেন অভিযুক্ত।
গাড়ির মালিক অঙ্কিত সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কিনে ব্যবসা শুরু করেন। গত ফেব্রুয়ারিতে অভিযুক্তকে চালক হিসাবে নিয়োগ করেন। প্রসঙ্গত, গত সোমবার ফুটপাথ থেকে ঘুমন্ত শিশুকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগ ওঠে ক্যাবচালকের বিরুদ্ধে। শিশুটিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় সে বাবাকে চিৎকার করে বলে, ‘‘আমাকে বাঁচাও, বাবা।’’ মেয়ের চিৎকারে ঘুম ভাঙতেই বাবা দেখেন, তাঁর কন্যাকে একটি ট্যাক্সিতে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন চালক। সাদা রঙের সেই গাড়িটির পিছু পিছু দৌড়োন তিনি। কিন্তু গতি বাড়িয়ে গাড়িটি উধাও হয়ে গিয়েছিল। দিশাহারা বাবা মেয়ের খোঁজে এ দিক-ও দিক ছুটে বেড়াতে থাকেন। শেষে পুলিশের টহলদারি ভ্যান দেখতে পেয়ে তাদের জানান গোটা বিষয়টি। তার পরই শুরু হয় খোঁজ। কয়েক ঘণ্টা পর শিশুটির দেহ উদ্ধার হয় ঘটনাস্থল থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে গুরুগ্রাম-ফরিদাবাদ রোডের ধারে একটি জঙ্গল থেকে।