Allahabad High Court

‘বিচারকদের চাপ দিচ্ছে পুলিশ’, কড়া হাই কোর্ট

অভিযুক্তদের পায়ে গুলি করার পরে পুলিশ সেই ঘটনাগুলিকে সংঘর্ষ বলে দাবি করছে, এই মর্মে মামলা হয়েছিল হাই কোর্টে। সেই মামলাতেই বিচারপতি অরুণকুমার সিংহ দেশওয়াল জানান, অনেক জেলায় মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দিষ্ট নির্দেশ দিতে চাপ দিচ্ছেন পুলিশ অফিসারেরা।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪১
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে কড়া অবস্থান নিল ইলাহাবাদহাই কোর্ট।

অভিযুক্তদের পায়ে গুলি করার পরে পুলিশ সেই ঘটনাগুলিকে সংঘর্ষ বলে দাবি করছে, এই মর্মে মামলা হয়েছিল হাই কোর্টে। সেই মামলাতেই বিচারপতি অরুণকুমার সিংহ দেশওয়াল জানান, অনেক জেলায় মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দিষ্ট নির্দেশ দিতে চাপ দিচ্ছেন পুলিশ অফিসারেরা। আদালতের নির্দেশে এ দিন এই মামলায় ভিডিয়ো কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে হাজিরা দেন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিজি রাজীব কৃষ্ণ ও অতিরিক্ত মুখ্যসচিব (স্বরাষ্ট্র) সঞ্জয় প্রসাদ। তাঁদের উদ্দেশে বিচারপতি বলেন, ‘‘উত্তরপ্রদেশকে পুলিশি রাজ্য হতে দেবেন না।’’ বিচারপতির মতে, বিভিন্ন জেলায় এই ধরনের ঘটনা সামনে এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে চলা হচ্ছে না। যখনই ম্যাজিস্ট্রেট সেই নির্দেশ মানার কথা বলছেন তখনই পুলিশ সুপারের সঙ্গে তাঁর টানাপড়েন শুরু হচ্ছে। একটি জেলায় টানাপড়েন এড়াতে বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটকেসরাতে হয়েছে।

বিচারপতির মতে, মূলত তরুণ অফিসারদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। অনেক ক্ষেত্রে এজলাসে ঢুকে তাঁরা বিচারককে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু নিম্ন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকও যখন বিচারকের আসনে বসেন তখন তিনি তাঁর সামনে থাকা অন্য সকলের চেয়ে উঁচুতে অবস্থান করেন। এমনকি জেলা আদালত পরিদর্শনের সময়ে তিনি বিচারকদের নিজেদের আসন থেকে উঠতে নিষেধ করেছেন বলে জানান বিচারপতি দেশওয়াল। কারণ, আইনত তখন সেই বিচারকের স্থান তাঁর ঊর্ধ্বে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিজি কৃষ্ণ জানান, যদি প্রোটোকল মেনে চলা না হয়ে থাকে তবে তা মানার জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হবে।অভিযুক্তদের পায়ে গুলি করার অভিযোগ নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছেন বিচারপতি দেশওয়াল। তিনি জানান, সংঘর্ষের নামে পায়ে বা দেহের অন্য অংশে গুলি করা নিয়ে কোনও লিখিত বা মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কি না তা রাজ্যকে জানাতে হবে।

বেঞ্চের মতে, এমন ঘটনা সাধারণ প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে খুশি করতে, কখনও বা অভিযুক্তদের ‘শিক্ষা’ দিতে এমন পদক্ষেপ করছে পুলিশ। যা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিচারপতিদের মতে, ‘‘শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র আদালতের আছে। ভারত আইনের শাসন দ্বারা পরিচালিত একটি গণতান্ত্রিক দেশ।’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন