(বাঁ দিক থেকে) রাঘব চড্ঢা, অণ্ণা হজারে এবং অরবিন্দ কেজরীবাল। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
রাঘব চড্ঢা-সহ আপের সাত সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই অরবিন্দ কেজরীবালের দলের সমালোচনা করলেন অণ্ণা হজারে। প্রবীণ এই সমাজকর্মী শনিবার বলেন, “এটা ওঁদের (আপ নেতৃত্বের) ব্যর্থতা। যদি ওই দল সঠিক পথ অনুসরণ করত, তা হলে তাঁরা (চড্ঢা) ছাড়ত না।”
শনিবার মহারাষ্ট্রের অহল্যানগর জেলায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অণ্ণা আপ সাংসদদের দলবদল প্রসঙ্গে মুখ খোলেন। কার্যত চড্ঢাদের পক্ষ নিয়ে বলেন, “নিশ্চয়ই ওঁরা কোনও সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন। সেই কারণেই ওঁরা দল ছেড়েছেন। গণতন্ত্রে প্রত্যেকেরই মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “থাকবেন না চলে যাবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার এক জন মানুষের রয়েছে।”
রাঘবের সঙ্গে আপ-এর যে রাজ্যসভা সাংসদেরা শুক্রবার বিজেপিতে যোগদানের ঘোষণা করেছেন, তাঁরা হলেন— প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিংহ, দলের অন্যতম সম্পাদক সন্দীপ পাঠক, তিন শিল্পপতি— রাজেন্দ্র গুপ্ত, অশোক মিত্তল ও বিক্রম সাহনে এবং দিল্লির নেত্রী স্বাতী মালিওয়াল। এঁদের মধ্যে স্বাতী লোকসভা ভোটের আগেই বিদ্রোহী হয়েছিলেন। দিল্লির তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কেজরীবালের ব্যক্তিগত সচিব বৈভব কুমারের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে অভিযোগ তুলেছিলেন, দলকে জানানো সত্ত্বেও বৈভবের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।
রাঘবের অসন্তোষের সূত্রপাত চলতি মাসের গোড়ায়। আপ শীর্ষনেতৃত্বের সিদ্ধান্তে রাজ্যসভার সহকারী দলনেতা (ডেপুটি লিডার) পদ খোয়ানোর পরে। রাঘবের বদলে অশোককে ওই পদে বসিয়েছিলেন কেজরী। কিন্তু তিনিও শুক্রবার দল ছেড়েছেন।
২০১১ সালে কেন্দ্রের তৎকালীন ইউপিএ সরকারের বিরুদ্ধে অণ্ণার আন্দোলনের মঞ্চে দেখা গিয়েছিল কেজরীকে। সেই সময়ে কেউ কেউ কেজরীকে ব্যাখ্যা করতেন অণ্ণার ‘ভাবশিষ্য’ হিসাবে। তবে বহু দিন সেই ‘গুরু-শিষ্য’ সম্পর্কে ‘চিড়’ ধরেছে। এই খবর আর নতুন নয়। অণ্ণার মঞ্চ থেকেই কেজরীবালের পরিচিতি তৈরি হয় বলে অনেকে মনে করেন। ২০১২ সালে কেজরী রাজনৈতিক দল আপ গঠন করেন। যদিও রাজনৈতিক দল তৈরি নিয়ে অণ্ণার ঘোর ‘আপত্তি’ ছিল। অন্য দিকে, দিল্লির রামলীলা ময়দানে অন্নার আন্দোলনমঞ্চে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে দেখা গিয়েছিল চড্ঢা।