—প্রতীকী ছবি।
টাকা তছরুপের মামলায় ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর অর্থ বাজেয়াপ্ত করার পরিমাণ বেড়েছে। তবে গ্রেফতারি অনেক কমে গিয়েছে। এমনটাই বলছে সরকারি পরিসংখ্যান। তা থেকেই জানা গিয়েছে, ২০২৫-২৬ আর্থিক বর্ষে ৮১ হাজার কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, যা এখন পর্যন্ত সর্বাধিক।
২০২৫-২৬ আর্থিক বর্ষে অর্থ নয়ছয় প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এ ইডি সারা দেশে ২,৮৯২টি তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থ নয়ছয়ের মামলায় ইডি-কে প্রয়োজন মতো অভিযান, তল্লাশি, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার অধিকার দিয়েছে পিএমএলএ। ওই আইন অনুসারে, এই ধরনের মামলায় জামিন পাওয়াও সহজ নয়। জামিনে থাকার সময় অন্য কোনও অপরাধে অভিযুক্ত জড়িয়ে পড়বে না, তা নিয়েও নিশ্চিত করতে হয় আদালতকে। তবেই মেলে জামিন।
গত অর্থবর্ষের শুরুতে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ইডি ঘোষণা করেছিল, প্রতারণার শিকার হয়েছেন, এমন ব্যক্তিদের তারা বাজেয়াপ্ত করা অর্থ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা ফিরিয়ে দেবে ওই বছরে। এমনটাই বলছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই। গত অর্থবর্ষে যদিও প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা প্রতারিতদের ফিরিয়ে দিয়েছিল ইডি। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ইডি গ্রেফতার করেছিল ১৫৬ জনকে। যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তারা গ্রেফতার করেছিল ২১৪ জনকে। তার চেয়ে গত অর্থবর্ষে ইডির হাতে গ্রেফতার কমেছিল ২৭ শতাংশ। ২০২৩-২৪ সালে ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিল ২৭২ জন। কেন গত অর্থবর্ষে গ্রেফতারি কমেছে? ইডির যুক্তি, তারা ‘লক্ষ্য মেনে প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত’ করছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৭১২টি নির্দেশের ভিত্তিতে ৮১ হাজার ৪২২ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। আগের বছরের তুলনায় ১৭১ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৩০ হাজার ৩৬ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছিল তারা। ইডির দাবি, অপরাধীরা যাতে বেআইনি অপরাধের ফল ভোগ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ইডি যত অভিযান চালিয়েছে, তার মধ্যে ২,৮৯২টির খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সেই সংখ্যাটা ছিল ১,৪৯১। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, শুধু তল্লাশির উপর নির্ভর করে ইডি তদন্ত করেনি। বরং বিভিন্ন অর্থনৈতিক নথি, ক্রিপ্টোকারেন্সির তথ্য ঘেঁটেও তারা তদন্ত করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তারা ৮১২টি চার্জশিট জমা করেছে। তার আগের অর্থবর্ষে ৪৫৭টি চার্জশিট ইডি কোর্টে জমা করেছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, অতীতে ইডির মামলা দীর্ঘ দিন ধরে চলত। এখন সেই সময়সীমা কমেছে। এখন ইডির মামলা চলছে গড়ে এক থেকে দেড় বছর। আগে এক-একটি মামলা চলত তিন থেকে চার বছর।
পূর্ববর্তী অর্থবর্ষের তুলনায় গত অর্থবর্ষে ইডির রুজু করা মামলার সংখ্যা বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১,০৮০টি এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফর্মেশন রিপোর্টস (ইসিআইআর) রুজু হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সেই সংখ্যা ছিল ৭৭৫। সরকারি রিপোর্ট বলছে, পঞ্জি মামলাতেও সাফল্য পেয়েছে ইডি। এই ধরনের মামলায় গত অর্থবর্ষে প্রতারিতদের হাতে ১৫ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা ফিরিয়ে দিয়েছে ইডি।
টাকা নয়ছয়ের তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন দেশে আইনি পথে সাহায্য চেয়ে লেটার্স রোটেটরি, মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিসট্যান্স ট্রিটি পাঠিয়েছে ইডি। এ ধরনে ৩৫৩টি অনুরোধের এখনও মীমাংসা হয়নি। সেই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আরব আমিরশাহি (৬৯)। গত অর্থবর্ষে অন্য দেশের সরকারি সংস্থার থেকেও প্রতারণার মামলায় সাহায্য চেয়ে চিঠি পেয়েছে ইডি। সবচেয়ে বেশি অনুরোধ এসেছে ব্রিটেন থেকে।