RIFT in ADMK

তামিলনাড়ুতে আস্থাভোটে জয় মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের, ২৪ এডিএমকে বিধায়কের সমর্থন! বিদ্রোহীদের বহিষ্কার দাবি পলানীস্বামীর

বুধবার তামিলাগা ভেট্টিরি কাজ়াগম (টিভিকে) নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী বিজয় তামিলনাড়ু বিধানসভায় আস্থাভোটের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ভোটের ফলে দেখা যায় বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার ১৪৪ জন বিধায়কের সমর্থন পেয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ২৩:৩৩
Share:

(বাঁ দিকে) তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থলপতি জোশেফ বিজয় এবং তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ইকে পলানীস্বামী (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থলপতি জোশেফ বিজয়ের আনা আস্থাপ্রস্তাব সমর্থনের কারণে নিজের দলেরই ২৪ জন বিদ্রোহী বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের দাবি জানালেন এডিএমকে প্রধান তথা তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ইকে পলানীস্বামী। বুধবার আস্থাভোটের পরেই স্পিকারের কাছে দলের তরফে এই আবেদন জানিয়েছেন তিনি। এর ফলে গত চার দশকের মধ্যে তৃতীয় বার ভাঙতে চলেছে এডিএমকে।

Advertisement

আস্থাভোট ঘিরে অন্তর্কলহ

বুধবার তামিলাগা ভেট্টিরি কাজ়াগম (টিভিকে) নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী বিজয় তামিলনাড়ু বিধানসভায় আস্থাভোটের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ভোটের ফলে দেখা যায় বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার ১৪৪ জন বিধায়কের সমর্থন পেয়েছে। টিভিকে-র জোটসঙ্গী কংগ্রেস, সিপিএম, সিপিআই, ভিসিকে, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের বিধায়কেরা স্বাভাবিক ভাবেই আস্থাভোটে সরকারের পক্ষে ভোট দেন। ভোটাভুটির আগেই বিধানসভা কক্ষ ত্যাগ করেন এমকে স্ট্যালিনের দল ডিএমকে-র ৫৯ জন বিধায়ক।

ইকে পলানীস্বামীর নেতৃত্বাধীন ৪৭ বিধায়কের এডিএমকে ভোটদানে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু এসপি ভেলুমনির নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী’ ২৪ বিধায়ক আস্থাভোট সরকারের পক্ষে ভোট দেন। পলানীস্বামীর নির্দেশ মেনে আস্থাপ্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেন মাত্র ১৭ বিধায়ক। এর পরেই ভেলুমনি-সহ ২৪ বিদ্রোহীর পদ খারিজের দাবিতে স্পিকারকে চিঠি পাঠিয়েছে পলানী শিবির। পাশাপাশি, বিদ্রোহী গোষ্ঠী মূল নেতা তথা এডিএমকে-র রাজ্যসভা সাংসদ সিভি সম্মুগমকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পলানী শিবিরের এই পদক্ষেপের পরে এডিএমকে-তে তৃতীয় বার ভাঙনের পথ প্রশস্ত হল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

Advertisement

চার দশকে তৃতীয় ভাঙন

দ্রাবিড় রাজনীতির ইতিহাস বলছে ভাঙন থেকেই সূচনা হয়েছিল এডিএমকে-র। গত চার দশকে সেই দল ভেঙেছে মোট তিন বার। ডিএমকে নেতা তথা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী আন্না দুরাইয়ের মৃত্যুর পরে নেতৃত্ব নিয়ে এম করুণানিধির সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে দল ছেড়েছিলেন তামিল চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী নায়ক এমজি রামচন্দ্রন। ডিএমকে-কে পরাস্ত করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনবার। ১৯৮৭ সালে রামচন্দ্রনের মৃত্যুর পরে তাঁর স্ত্রী জানকী মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তামিল নায়িকা জয়ললিতা দলে ভাঙন ধরান। নির্বাচনী সাফল্যে জানকীকে পিছনে ঠেলে জয়ললিতার দলই ‘আসল এডিএমকে’ হয়ে ওঠে। ২০১৬ সালে জয়ললিতার মৃত্যুর পরে পলানীস্বামী এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও পন্নীরসেলভমের দ্বন্দ্বে ফের ভাঙন ধরেছিল এডিএমকে-তে। পরে বিজেপির মধ্যস্থতায় সাময়িক ভাবে দু’শিবিরের মৈত্রী হলেও পরবর্তী সময় পলানী বহিষ্কার করেন পন্নীরকে। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা ভোটের আগে ডিএমকে-তে যোগ দিয়ে বিধায়ক হয়েছেন পন্নীর।

জ্যোতিষী বিদায় বিজয়ের

মুখ্যমন্ত্রী বিজয় মঙ্গলবার নিজের দফতরের ওএসডি (অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি) পদে নিয়োগ করেছিলেন জ্যোতিষী রাধন পণ্ডিত ভেটরিভেলকে। কিন্তু রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়ে বুধবার সেই নিয়োগ বাতিল করলেন তিনি। বুধবার বিধানসভার আস্থাভোটের আগেই মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের প্রিন্সিপাল সচিব রাধনের নিয়োগ ‘বাতিল’ ঘোষণা করেন।

তামিলনাড়ুতে বিধানসভা ভোটের পরে একটিমাত্র বুথফেরত সমীক্ষায় বিজয়ের দল ‘টিভিকে-কে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে অনেককে বিস্মিত করে ওই জ্যোতিষী ভোটগণনার আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, বিজয়ের দলই জয়ী হতে চলেছে। টিভিকের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর যে কয়েক জন সবচেয়ে আগে বিজয়কে শুভেচ্ছা জানান, রাধন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। জ্যোতিষ হিসাবে রাধনের বিশেষ খ্যাতি রয়েছে তামিলনাড়ুতে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে তাঁর করা ভবিষ্যদ্বাণী অনেক সময়েই মিলে গিয়েছে। তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা এডিএমকে নেত্রী জয়ললিতাও রাধনের গণনার উপর ভরসা রাখতেন।

ভোটের পর কংগ্রস, দুই বাম দল, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) এবং দলিত সংগঠন ভিসিকে-র সমর্থনে সরকার গড়ার জাদুসংখ্যায় পৌঁছোয় বিজয়ের দল। শপথের দিনক্ষণ স্থির করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা ছিল রাধনের। প্রথমে স্থির হয়েছিল রবিবার বিকেল পৌনে ৪টের সময় মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন বিজয়। কিন্তু ওই জ্যোতিষীর পরামর্শে শপথগ্রহণের সময় বদলে দেওয়া হয়। রবিবার সকাল ১০টায় শপথ নেন বিজয়। বিজয়ের দল টিভিকে সূত্রে খবর, রাধন জানিয়েছিলেন যে, সকাল ১০টায় ‘পবিত্র মুহূর্তে’ শপথ নিলে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হবে বিজয়ের। জ্যোতিষীর পরামর্শ অক্ষরে অক্ষরে মেনেছিলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement