Himanta Biswa Sarma And Gourav Gogoi

হিমন্তর অভিযোগ উড়িয়ে পাল্টা হুঁশিয়ারি গৌরবের

গৌরবের সাংবাদিক সম্মেলন চলাকালীনই হিমন্ত এক্স-এ লেখেন, তক্ষশিলা ইসলামাবাদে নয়, রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত। গৌরব বলেন, ইসলামাবাদের পাশেই রাওয়ালপিন্ডি। হিমন্ত ফের প্রশ্ন তোলেন, রাওয়ালপিন্ডিতে পাক সেনার সদর দফতর রয়েছে। তাই গৌরবের সেখানে যাওয়া সন্দেহজনক।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৬
Share:

(বাঁ দিকে) হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং গৌরব গগৈ (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

অসম কংগ্রেসের সভাপতি ও লোকসভায় বিরোধী উপ-দলনেতা গৌরব গগৈ ও তাঁর স্ত্রী এলিজ়াবেথ কোলবার্নের পাকিস্তান সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং তাঁদের ‘পাকিস্তানের গুপ্তচর’ বলে দাবি করে রবিবার বিশেষ তদন্ত দলের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। সোমবার হিমন্তের সব অভিযোগের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি গৌরব হুমকি দিলেন, তাঁর দুই শিশু সন্তানের ছবি ও তথ্য সাংবাদিক সম্মেলনে প্রকাশ করার ঘটনা নিয়ে তিনি আইনেরদ্বারস্থ হবেন।

গৌরব আজ বলেন, “আমাদের পাকিস্তান সফরে কিছুই গোপন ছিল না। আমার নববিবাহিতা স্ত্রী ২০১২ সালে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক প্রকল্পে কাজের জন্য প্রায় এক বছর পাকিস্তানে ছিলেন। আটারি সীমান্তে পাসপোর্ট-ভিসা দেখিয়ে আমরা পাকিস্তানে যাই। ২০১৪ সালে সাংসদ হওয়ার পরে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র দফতরের সিল থাকা সেই পাসপোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দিয়ে কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিই আমি।” গৌরব আরও জানান, স্ত্রীর সঙ্গে লাহোর থেকে তাঁরা তক্ষশিলা-সহ কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে দেখেন। স্ত্রীর দফতর ইসলামাবাদে থাকায় সেখানেও যান। গগৈ বলেন, ‘‘সমস্ত ভ্রমণ আইন মেনেই করা হয়েছিল এবং সাংসদ হওয়ার পর সেই সংক্রান্ত নথিও সরকারকে জমা দেওয়া হয়।’’ তাঁর স্ত্রী কাজ শেষ করে ভারতে ফেরার পর পাকিস্তান-সংক্রান্ত সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও বন্ধ করে দেন বলে জানান গৌরব। লোকসভার বিরোধী উপ-দলনেতার দাবি, “গত ১১ বছর ধরেই মোদী সরকার আমার পাক সফরের বিষয়ে সব জানত। অথচ এত দিন পরে ভোটের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমার ও আমার পরিবারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এই ‘ফ্লপ শো’ করছেন হিমন্ত।”

গৌরবের সাংবাদিক সম্মেলন চলাকালীনই হিমন্ত এক্স-এ লেখেন, তক্ষশিলা ইসলামাবাদে নয়, রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত। গৌরব বলেন, ইসলামাবাদের পাশেই রাওয়ালপিন্ডি। হিমন্ত ফের প্রশ্ন তোলেন, রাওয়ালপিন্ডিতে পাক সেনার সদর দফতর রয়েছে। তাই গৌরবের সেখানে যাওয়া সন্দেহজনক।

গগৈ আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের দুই শিশুর ছবি ও সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে শিশু সুরক্ষা ও অধিকার সংক্রান্ত আইন ভেঙেছেন, তাই তিনি এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় আদালতের দ্বারস্থ হবেন। গৌরবের কথায়, “রাজনীতির লড়াইয়ে শিশুদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা অন্যায়। ব্যক্তিগত আক্রমণ চলতে থাকলে আমিও মুখ্যমন্ত্রীর সন্তানদের বিষয়ে অনেক অজানা তথ্য প্রকাশ করতে পারি।” সংসদে ‘সংবেদনশীল’ প্রশ্ন তোলার অভিযোগ প্রসঙ্গে গগৈ বলেন, “আমার কোনও প্রশ্ন যদি দেশের নিরাপত্তার প্রতি সংবেদনশীল হত, সেই প্রশ্ন আগেই বাতিল করে দিত লোকসভার সচিবালয়। কিন্তু প্রশ্নও বাতিল হয়নি, কেন্দ্র সে সব প্রশ্নের জবাবও দিয়েছে।”

হিমন্ত অভিযোগ করেছিলেন, গৌরব-পত্নী এলিজ়াবেথ আইবি-র গোপন তথ্য সংগ্রহ করে তাঁর নিয়োগকর্তা, পাকিস্তানের আলি তৌকির শেখের কাছে পাঠিয়েছিলেন। গৌরবের পাল্টা দাবি, তাঁর স্ত্রীর পাঠানো তথ্যগুলি গোপন নয়, ইতিমধ্যে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ছিল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন