—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগানে টান পড়ায় মুম্বইয়ের ২০ শতাংশ হোটেল এবং রেস্তরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে! মঙ্গলবার এমনটাই দাবি করেছে, সেখানকার হোটেল এবং রেস্তরাঁগুলির সংগঠন ‘আহার’। ওই সংগঠনের দাবি, বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের জোগান আগের মতো স্বাভাবিক না-হলে, আগামী দু’দিনের মধ্যে শহরের ৫০ শতাংশ হোটেল বন্ধ করে দিতে হবে।
কেবল মুম্বই নয়, দেশের একাধিক শহরে বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগান ব্যাহত হয়েছে। প্রভাব পড়েছে মূলত হোটেল, রেস্তরাঁগুলিতে। পরিস্থিতির বদল না-হলে আরও অনেক রেস্তরাঁয় তালা ঝুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। মঙ্গলবার মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, হোটেল, রেস্তরাঁ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গ্যাসের জোগান কেমন কী রয়েছে, তা খতিয়ে দেখবে এই কমিটি।
আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পরেই গোটা বিশ্বে তেল এবং গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ওমান এবং পারস্য উপসাগরের মধ্যবর্তী হরমুজ় প্রণালী ইরান কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখায় তেল এবং গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কারগুলি সেখানগুলি দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভারতে মোট আমদানি হওয়া অশোধিত তেলের ৪০ শতাংশ এবং পেট্রোলিয়াম গ্যাসের ৮০ শতাংশ পশ্চিম এশিয়া থেকেই আসে। এই পরিস্থিতিতে তেল এবং গ্যাসের জোগান নিয়ে অনিয়শ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে সরকারি সূত্র মারফত একাধিক বার দাবি করা হয়েছে, দেশে যথেষ্ট পরিমাণ তেল এবং গ্যাস মজুত রয়েছে।
মুম্বই দেশের বাণিজ্যনগরী হিসাবে খ্যাত। আরব সাগর তীরবর্তী এই শহরে গ্যাসের জোগানের অভাবে হোটেল বন্ধ হওয়াকে উদ্বেগজনক বলেই মনে করা হচ্ছে। হোটেল সংগঠনটির তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, তারা রেস্তরাঁ বন্ধ করার বিষয়ে সম্মলিত ভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগান খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। অনেক হোটেল আবার গ্যাস বাঁচাতে বেশ কিছু পদ রান্না করা আপাতত স্থগিত রেখেছে।
গ্যাসের জোগান নিয়ে আশ্বস্ত করলেও সম্প্রতি পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, ২৫ দিনের কম ব্যবধানে দু’টি গ্যাস সিলিন্ডার ‘বুক’ করতে পারবেন না গৃহস্থেরা। মন্ত্রক সূত্রে খবর, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অনেকেই ‘প্যানিক বুকিং’ করছেন। অর্থাৎ, অতিরিক্ত সিলিন্ডার মজুত করার চেষ্টা করছেন। আপাতত গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত গ্যাসের জোগান সুনিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে কেন্দ্র। তবে বাণিজ্যিক গ্যাসের ক্ষেত্রে হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে জোগান সুনিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।