ঘাতক-বিচার নিয়ে নাক গলাচ্ছে পাকিস্তান, সরব বাংলাদেশের মন্ত্রী

ঘাতক বাহিনীর বিচার নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে পাকিস্তান নাক গলাচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন বাংলাদেশের খাদ্যমন্ত্রী মহম্মদ কামরুল ইসলাম। পাশাপাশি তাঁর দাবি, সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারতের সঙ্গে হাত মিলিয়েই কাজ করতে চান তাঁরা।

Advertisement

কুন্তক চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫ ১৮:১০
Share:

বিজয় দিবস উপলক্ষে কলকাতা রেসকোর্সে সেনাবাহিনীর প্রদর্শনী। ছবি: সুদীপ্ত ভৌমিক।

ঘাতক বাহিনীর বিচার নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে পাকিস্তান নাক গলাচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন বাংলাদেশের খাদ্যমন্ত্রী মহম্মদ কামরুল ইসলাম। পাশাপাশি তাঁর দাবি, সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারতের সঙ্গে হাত মিলিয়েই কাজ করতে চান তাঁরা।

Advertisement

১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৬ ডিসেম্বর জয়লাভ করেছিল ভারত। তাই এই দিনটিকেই ‘বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এ বছর ‘বিজয় দিবস’ উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা-সহ বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কলকাতায় এসেছেন কামরুল। বুধবার সেই অনুষ্ঠানের ফাঁকে তিনি বলেন, ‘‘আমরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে অত্যাচার চালানো ঘাতকদের বিচার করছি। তা নিয়ে পাকিস্তান প্রতিবাদ করছে। সে দেশের পার্লামেন্টে নিন্দা প্রস্তাবও আনা হচ্ছে। এটা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সামিল।’’

কামরুল জানান, শিমলা চুক্তির ভিত্তিতে যুদ্ধে বন্দি হওয়া ১৯৫ জন সেনাকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেনি তারা। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে অত্যাচার চালানো ওই সব সেনার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি করেন কামরুল। তিনি বলেন, ‘‘এর জন্য ভারত এবং বাকি বিশ্বের সমর্থন চাইব আমরা।’’

Advertisement

দেখুন গ্যালারি-বিজয় দিবসের সূচনা

সেনাবাহিনীর অনেকেই বলছেন, ভারত ও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ এখন সমান ভাবে মাথাচাড়া দিচ্ছে। গত বছর খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণ এবং এ রাজ্যে জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)–এর নেটওয়ার্ক সামনে আসার পরে তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। এ দিন বাংলাদেশের মন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে হাত মিলিয়েই জঙ্গি দমন করতে চান তাঁরা। দু’দেশের যৌথ উদ্যোগে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

এ দিন সকালে বিজয় দিবস অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ফোর্ট উইলিয়ামে। স্মারকস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কম্যান্ডের জিওসি-ইন-সি লেফ্টেন্যান্ট জেনারেল প্রবীণ বক্সী-সহ দু’দেশের সেনাকর্তা এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। তার পরে রেসকোর্সে ভারতীয় সেনার প্যারাট্রুপাররা আকাশ থেকে প্যারাস্যুটে চেপে নেমে আসা-সহ নানা ধরনের কারসাজি দেখান। ছিল পোলো খেলা এবং ঘোড়দৌড়ের নানা রকম প্রদর্শনীও। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে হাজির ছিলেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীও।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement