— প্রতীকী চিত্র।
ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের ব্যর্থ হওয়ার কোনও প্রমাণ নেই বলে মন্তব্য করলেন সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। বুধবার বিবিসি-তে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তৌহিদ এই দাবি করেন।
মঙ্গলবার বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশন এবং অন্য কেন্দ্রগুলিতে নিযুক্ত কর্মীদের পরিবারকে দেশে চলে আসার পরামর্শ দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। ভোটমুখী বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিচার করেই এই পরামর্শ দেয় বিদেশ মন্ত্রক। তবে বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশন এবং অন্যান্য কেন্দ্র খোলা থাকবে এবং সেখানে কাজও চলবে। এর পরেই বুধবার সাক্ষাৎকারে তৌহিদ বলেন, “ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা ব্যর্থ— এর কোনও প্রমাণ নেই। তবে আমরা কিছুই বদলাতে পারব না। তারা যদি মনে করে এখানে নিরাপদ নয়, তা হলে সে সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারে। এটি দুঃখজনক হলেও, আমরা তাদের সিদ্ধান্ত বদল করতে পারি না।”
ভারত এবং বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তৌহিদ বলেন, “দু’দেশের মধ্যে ভাল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য, দু’পক্ষকেই সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একের পর এক পদক্ষেপে সম্পর্ক যদি নীচের দিকে নামানো হয়, তা হলে জটিলতা আরও বাড়বে।” গত প্রায় ৪০ বছর ধরে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন ভূমিকায় কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তৌহিদ জানান, তাঁর মনে হয়েছে ভারত কিছুটা অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং তিনি আরও সংযত প্রতিক্রিয়া আশা করেছিলেন। তাঁর সংযোজন, “বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্ককে দৃঢ় করতে দুই দেশকেই ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে হবে, কারণ বর্তমানে এই সম্পর্ক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই। আমাদের মধ্যে আরও বেশি পারস্পরিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়া থাকা উচিত ছিল।”
আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি হয়। এর মধ্যে গত বছর ভারতের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে বাংলাদেশের দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ হয়। ওই বিক্ষোভের পর নয়াদিল্লি, আগরতলা ও কলকাতায় অবস্থিত ভিসা-কেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। বন্ধ রাখা হয় অন্য কনসুলার পরিষেবাও। হাসিনার প্রসঙ্গে তৌহিদ বলেন, “তিনি এখন ভারতের আশ্রয়ে আছেন। বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল, তিনি সেখানে অবস্থানকালে এমন কোনও বক্তব্য রাখবেন না, যা বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে বা দু’দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হয়।” একই সঙ্গে তিনি জানান, এটি বাংলাদেশের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশ যেমন ভারতে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিয়ে মন্তব্য করে না, তেমনই ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও একই আচরণ প্রত্যাশা করা হয়।
পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নতি প্রসঙ্গে তৌহিদ বলেন, “পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের কিছু অমীমাংসিত বিষয় থাকলেও, দেশটি স্বাভাবিক সম্পর্কই চেয়েছে এবং পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই।”