কাছাড় জেলায় রাজীব গাঁধী গ্রামীণ বৈদ্যুতিকীকরণ প্রকল্প লক্ষ্যমাত্রা থেকে বহু দূরে। এরই মধ্যে নতুন সরকার একই ধরনের অন্য একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তার নাম— দীনদয়াল উপাধ্যায় গ্রামজ্যোতি যোজনা।
রাজীব গাঁধী গ্রামীণ বৈদ্যুতিকীকরণ প্রকল্পে যে সাফল্য মেলেনি, তা সরকারের তথ্যেই তা স্পষ্ট। জেলায় দু’বছরে মাত্র ২০০ পরিবারে ওই প্রকল্পের মাধ্যমে আলো জ্বালানো সম্ভব হয়েছে।
বেশ কিছু দিন ধরে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়া বন্ধ হয়েছে। ফলে গণ-অভিযোগ থেকে অনেকটা রেহাই পেয়েছেন মধ্য অসম বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কর্তারা। কিন্তু জেলাশাসক আহূত সাম্প্রতিক সভায় রাজীব গাঁধী গ্রামীণ বৈদ্যুতিকীকরণ প্রকল্পের তথ্য জেনারেল ম্যানেজার-সহ অন্য আধিকারিকদের অস্বস্তিতে ফেলে।
আসলে সভা ডাকা হয়েছিল দীনদয়াল উপাধ্যায় গ্রামজ্যোতি যোজনা নিয়েই। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে অসমের গ্রামীণ এলাকায় আরও ২৪ লক্ষ ৯৪ হাজার ৮২টি পরিবারে বৈদ্যুতিক
আলো জ্বালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার।
১৬ জুলাইয়ের মধ্যে সব বিধায়কদের এ সংক্রান্ত তালিকা জমা দিতে অনুরোধ করা হয়। সেই সূত্রেই আসে রাজীব গাঁধী গ্রামীণ বৈদ্যুতিকীকরণ প্রকল্পের কথা। দীর্ঘ আলোচনার পর ঠিক হয়, দুই প্রকল্প একইসঙ্গে চলবে। পুরনো প্রকল্পে শুধু দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারীদের বাছাইয়ের কথা বলা হয়েছিল, দীনদয়াল যোজনায় ধনী-গরীব সবাইকে বিদ্যুতের আওতায় আনতে বলা হয়েছে। সে জন্য বিদ্যুৎ সংস্থা বা ঠিকাদারকে এক টাকাও দিতে হবে না। কোনও দালাল ধরারও প্রয়োজন নেই বলে সে দিনের সভায় বিধায়ক ও বিধায়ক-প্রতিনিধিদের জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত অনেকেই ট্রান্সফর্মার সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। কাটিগড়া, লক্ষ্মীপুর, ধলাইয়ে প্রায়ই এ নিয়ে ভুগতে হয় বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। বলেন— ট্রান্সফর্মার বদলানো মানেই কয়েক মাসের জন্য গোটা এলাকা অন্ধকারে ডুবে যাওয়া। সামান্য মেরামতির জন্যও কম যন্ত্রণা হয় না।
নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নতুন লাইনে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না বলে বিদ্যুৎ কর্তারা স্বীকার করেন। সভায় শিলচরের বিধায়ক দিলীপকুমার পালের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুরসদস্য বিজেন্দ্রপ্রসাদ সিংহ। তিনি বলেন, ‘‘৭ দিনে নতুন সংযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে, কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় ৭ মাসেও তা মেলে না। ফলে মানুষকে বাধ্য হয়েই দালাল ধরতে হয়।’’ এ ব্যাপারে দ্রুত পরিষেবার ব্যবস্থা করতে বিদ্যুৎকর্তাদের নির্দেশ দেন জেলাশাসক বিশ্বনাথন।
আলগাপুরের বিধায়ক নিজামউদ্দিন চৌধুরী সভায় জানান, তাঁর বিধানসভা আসনের যে এলাকা কাছাড়ের অন্তর্গত, সেখানকার জনগণ অত্যন্ত অবহেলিত। বিদ্যুৎক্ষেত্রও ব্যতিক্রম নয়। তিনি এই দুই প্রকল্পে ওই এলাকাকে কত বেশি উপকৃত করা যায়, সে দিকে বিশেষ দিকে নজর দিতে জেলাশাসক ও বিদ্যুৎকর্তাদের অনুরোধ করেন।
অন্যদিকে, বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার তথা শিলচরের বিধায়ক দিলীপকুমার পাল পরে সাংবাদিকদের জানান, রাজ্যের সমস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছনোর সংকল্প নিয়েছে সর্বানন্দ সরকার। সে জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছেন তাঁরা। বিশেষ করে, দীনদয়াল উপাধ্যায় গ্রামজ্যোতি যোজনা কোনও মতেই যেন রাজীব গাঁধী গ্রামীণ বৈদ্যুতিকীকরণ প্রকল্পের মতো না হয়, সে ব্যাপারে তিনি বিদ্যুত সংস্থাগুলিকে সতর্ক করে দেন।