(বাঁ দিকে) দেবেন্দ্র ফডণবীস এবং একনাথ শিন্ডে (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
আগামী ১৫ জানুয়ারি বৃহন্মুম্বই (বিএমসি)-সহ ২৯টি পুরসভার ভোট হবে মহারাষ্ট্রে। তার আগেই সাফল্য পেল বিজেপি নেতৃত্বাধীন শাসকজোট ‘মহাজুটি’ (এনডিএ-র মরাঠি সংস্করণ)। বিভিন্ন পুরসভার মোট ৬৮টি ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে তারা।
শুক্রবার মনোনয়ন প্রত্যাহার-পর্ব শেষ হওয়ার পরে মহারাষ্ট্র নির্বাচন কমিশনের তরফে যে তথ্য-পরিসংখ্যান পেশ করা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি একাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছে ৪৪টি আসনে। তার মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিরোধী প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের জেরে এসেছে জয়। এই পরিস্থিতিতে শাসকজোটের বিরুদ্ধে ভীতিপ্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস-সহ কয়েকটি বিরোধী দল।
পরিসংখ্যান বলছে, কল্যাণ-ডোম্বিবলী পুরসভার ১০টি ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন বিজেপি এবং তার সহযোগী শিন্দেসেনা প্রার্থীরা। এ ছাড়া পুণে, পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়, পনভেল, ভিওয়ান্ডি, ধুলে, জলগাঁও, অহল্যানগরের মতো পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডেও ভোটের আগে জিতে গিয়েছেন মহাজুটির প্রার্থীরা। তবে দেশের বৃহত্তম (জনসংখ্যা এবং বাজেটের নিরিখে) পুরসভা বিএমসির ২২৭টি ওয়ার্ডের সব ক’টিতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে আসন্ন ভোটে লড়ছেন মোট ১৭২৯ জন প্রার্থী।
মুম্বইয়ের পুরভোটে এ বার বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটকে ঠেকাতে দু’দশকের শত্রুতা ভুলে তুতো ভাই রাজ ঠাকরের মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। ফলে বিরোধী জোট ‘মহাবিকাশ অঘাড়ী’র (এমভিএ) অন্য দুই শরিক, কংগ্রেস এবং এনসিপি (শরদচন্দ্র পওয়ার) হাত মিলিয়েছে দলিত নেতা প্রকাশ অম্বেডকরের ‘বঞ্চিত বহুজন অঘাড়ী’ (ভিবিএ) এবং আরও কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে।
ভাঙন এড়াতে পারেনি শাসক মহাজুটিও। উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি-কে দূরে ঠেলে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের দল বিজেপি আসন সমঝোতা করেছে আর এক উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের শিবসেনার সঙ্গে। অন্য দিকে, অজিতের এনসিপি ৩৭টি আসনে লড়ছে আলাদা ভাবে। সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র আর এক শরিক সমাজবাদী পার্টিও ৩০টি ওয়ার্ডে আলাদা ভাবে প্রার্থী দিয়েছে। পৃথক ভাবে লড়ছে কেন্দ্রে বিজেপির সহযোগী দল রিপাবলিকান পার্টি অফ ইন্ডিয়া (অঠওয়ালে)-ও। যে দলের নেতা রামদাস অঠওয়ালে কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রী।