—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
আগামী বছর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। সেই নির্বাচনে প্রয়োজনীয় সমর্থন তো আছেই তা ছাড়াও, পাশ করাতে হবে সংবিধান সংশোধনকারী ‘এক দেশ এক ভোট’ ও মহিলা সংরক্ষণ তথা লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিলটি। আপাতত ওই তিনটি ‘বাধা’ পার হতে মূলত বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদদের নিয়ে গঠিত ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-র সমর্থন খুবই প্রয়োজন বিজেপির।
গত রাত থেকেই খবরের শিরোনামে কুলগোত্রহীন এনসিপিআই দলটি। বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতারাও ঘনিষ্ঠ মহলে স্বীকার করে নিচ্ছেন ওই দলটির অস্তিত্ব সম্পর্কে তাঁদের কোনও ধারণা ছিল না। সূত্রের মতে, গোড়ায় ঠিক হয়েছিল, শিবসেনা বা এনসিপি-র মতোই তৃণমূলের বিক্ষুব্ধরা আলাদা ব্লক হিসাবে সংসদে কেন্দ্রের পক্ষে ভোট দেবেন। পাশাপাশি, দলের জোড়া ফুল প্রতীক চেয়ে শিবসেনার শিন্দে গোষ্ঠীর মতো নির্বাচন কমিশনে আবেদন জানাবেন। বিজেপি সূত্রের মতে, শিবসেনার সময়ে প্রতীক চেয়ে লড়াই শেষ পর্যন্ত আদালতে গিয়েছিল, এ ক্ষেত্রেও তাই হত। বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় তখন সংসদে কোনও ভোটাভুটি হলে ওই বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের ভোট দেওয়ার প্রশ্নে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারত আদালত। সেই ঝুঁকি কী ভাবে এড়ানো যায়, তা ঠিক করতে ‘অপারেশন লোটাসের’ মূল মাথা ভূপেন্দ্র যাদব গত সন্ধ্যায় কথা বলেন অমিত শাহের সঙ্গে। সূত্রের মতে, শাহ এ বিষয়ে আইনি পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেন। সূত্রের মতে, আলোচনার পরে ঠিক হয়, কার্যত একটি অনামী দলে যোগ দেবেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদেরা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার এক নেতা। সূত্রের মতে, তিনিই নাকি এক সময়ে ত্রিপুরা নির্বাচনে অংশ নেওয়া এনসিপিআই দলের উপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করেন। যারা নীতিগত ভাবে এনডিএ-র শরিক দলও। সূত্রের মতে, তার পরেই ঠিক হয় তৃণমূলের সাংসদেরা দলত্যাগ করে ওই অনামী দলে যোগ দিয়ে লোকসভায় এনডিএ-র হাত শক্ত করবেন।
বিজেপি সূত্রের মতে, সরকারের কাছে সংসদের উভয় কক্ষেই সংবিধান সংশোধনী বিলের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন নেই। তাই সংবিধান সংশোধনকারী দু’টি বিল ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতেই বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সমর্থন খুবই প্রয়োজন হবে তাঁদের। গত এপ্রিলে সংবিধান সংশোধনকারী মহিলা সংরক্ষণ তথা লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিলটি এনেও তা প্রয়োজনীয় সংখ্যার অভাবে পাশ করাতে ব্যর্থ হয় সরকার। শাসক শিবির সূত্রে জানানো হয়েছে, এ বছরেই ওই বিলটি ফের সংসদে পেশ করা হবে। কিন্তু কবে, তা স্পষ্ট করেনি সরকার। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচনের পরে রাজ্য-রাজনীতির সমীকরণ প্রায় সম্পূর্ণ পাল্টে গিয়েছে। রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতা হারানোর পরে দলের কুড়ি জন লোকসভার সাংসদ এনডিএ সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়ে এনসিপিআই-তে যোগদানের ঘোষণা করেছেন। অন্য দিকে, ডিএমকে-ও অতীত তিক্ততা দূরে সরিয়ে রেখে এনডিএ-কে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু বিক্ষুব্ধ তৃণমূল ও ডিএমকে-র সমর্থন পেলেও লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী পাশ করাতে যে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন (৩৬২ জন) প্রয়োজন, তার থেকে প্রায় ত্রিশটি আসন কম রয়েছে শাসক শিবিরের। সূত্রের মতে, আগামী দিনে তৃণমূলের ধাঁচে ‘অপারেশন লোটাস’ চলতে পারে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম), শিবসেনা (উদ্ধব), এনসিপি (শরদ) দলেও। তার পরেও প্রায় জনা দশেক সাংসদের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
বিজেপি সূত্র বলছে, মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে একবার মুখ পুড়েছে দলের, বিশেষ করে অমিত শাহের। তাই দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন যতক্ষণ না নিশ্চিত হচ্ছে, ততক্ষণ সংবিধান সংশোধনকারী ‘এক দেশ এক ভোট’ বা মহিলা সংবিধান সংশোধনী বিল—কোনওটাই আনার পক্ষপাতী নয় দল। সে ক্ষেত্রে আরও ঘর গুছিয়ে নিয়ে বাদলের পরিবর্তে শীতকালীন অধিবেশনে ওই বিলগুলি আনবে সরকার। তবে দলের একটি অংশের মতে, আসন্ন বাদল অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনী নয়, এমন কোনও সাধারণ বিল এনে এবং তাতে ভোটাভুটি করিয়ে সরকারের পক্ষে ঠিক কত জনের সমর্থন রয়েছে, সেই জল মেপে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকার পক্ষের।
কেবল ওই দু’টি সংবিধান সংশোধনকারী বিলই নয়, সরকারের মাথায় রয়েছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টিও। আগামী বছরের গোড়ায় পঞ্জাবে ও উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। ওই দুই রাজ্যে যদি দলের ফল খারাপ হয়, বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতা ধরে রাখতে না পারলে ও পঞ্জাবে ক্ষমতা দখল করতে না পারলে, জুন-জুলাই মাসে হতে যাওয়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয় অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে এনডিএ-র। সে ক্ষেত্রেও পশ্চিমবঙ্গের বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ ও বিধায়কদের ভোট এনডিএ রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর জয়ের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনীতিকেরা।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে