US-Iran Peace Deal

‘লড়াই শেষ হয়নি’! লেবানন থেকে সেনা না-সরানোর বিষয়ে অনড় নেতানিয়াহু, হিজ়বুল্লাকে বিপদে ফেলে চুক্তি করবে ইরান?

আমেরিকা-ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই পড়শি লেবাননের দক্ষিণে নাগাড়ে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজ়রায়েল। তাদের নিশানায় ইরানের সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ০৯:৫৬
Share:

ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। —ফাইল চিত্র।

আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও লেবানন থেকে সেনা সরাবে না ইজ়রায়েল। সোমবার দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া একটি বক্তৃতায় এমনটাই জানালেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, “লড়াই এখনও শেষ হয়নি। আমাদের দেশকে রক্ষা করতে যত দিন প্রয়োজন, তত দিন আমরা সেখানে (লেবানন) থাকব।” নেতানিয়াহুর এই ঘোষণার পরেই শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ শান্তিচুক্তির অন্যতম শর্ত হিসাবে লেবাননে ইজ়রায়েলি হামলা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে ইরান। সে ক্ষেত্রে ইজ়রায়েল অনমনীয় অবস্থান নিলে ইরান পাল্টা কোনও শর্ত চাপায় কি না, সে দিকেই নজর সকলের।

Advertisement

আমেরিকা-ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই পড়শি লেবাননের দক্ষিণে নাগাড়ে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজ়রায়েল। তাদের নিশানায় ইরানের সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লা। মূলত দক্ষিণ ইজ়রায়েলের প্রভাব রয়েছে এই গোষ্ঠীটির। হিজ়বুল্লা দমনে দক্ষিণ লেবাননকে ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ বলে ঘোষণা করেছে ইজ়রায়েল। তবে কেবল দক্ষিণ লেবাননই নয়, সে দেশের রাজধানী বেইরুটি এবং সংলগ্ন অঞ্চলেও বোমাবর্ষণ করার অভিযোগ রয়েছে ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে।

মার্চ মাসে ইরানে যৌথ হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। তার পরেই তেহরানের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে ইজ়রায়েলে হামলা চালায় হিজ়বুল্লা। ইজ়রায়েল পাল্টা হামলা চালালে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির পাশে দাঁড়ায় ইরান। সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে মরিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুর লেবানন-নীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ‘অ্যাক্সিওস’-সহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, নেতানিয়াহুকে ফোন করে ট্রাম্প জানিয়ে দেন যে, হিজ়বুল্লার বিরুদ্ধে ইজ়রায়েল সংঘাত চালিয়ে গেলে আমেরিকা তার দায় নেবে না।

Advertisement

অন্য দিকে, কোন কোন শর্তে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে ইরান একাধিক বার স্পষ্ট করেছে যে, শান্তির পথে এগোতে হলে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে ইজ়রায়েলকে। নেতানিয়াহু বুঝিয়ে দিলেন, তিনি সেই শর্ত মানছেন না। নেতানিয়াহুর ‘অনমনীয়তার’ কারণে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে হওয়া দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ভেস্তে যাবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে ইজ়রায়েল এবং লেবানন জড়়িয়ে পড়লেও তারা সরাসরি এই চুক্তির অংশ নয়। এর আগে ওয়াশিংটনে ইজ়রায়েল এবং লেবাননের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক ভাবে শান্তিবৈঠক হয়েছিল আমেরিকার। কিন্তু লেবানন সরকারকে আবার স্বীকারই করে না বিদ্রোহী হিজ়বুল্লা গোষ্ঠী।

এই আবহে সোমবার আমেরিকা এবং ইরান শান্তিচুক্তি থেকে দূরত্ব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই বোঝাপড়া করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং আমেরিকা। এটা ওঁর (ট্রাম্প) সিদ্ধান্ত। আমাদের নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে।” কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, লেবাননে সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে নেতানিয়াহুর নিজস্ব স্বার্থও রয়েছে। কারণ চলতি বছরের শেষেই ইজ়রায়েলে নির্বাচন হবে। ওই ভোটে জিততে মরিয়া নেতানিয়াহু দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও নমনীয়তার বার্তা দিতে চান না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement