গুজরাতে ১৫০ আসন চাই, প্রস্তুতি অমিতের

শেষমুহূর্তে এই সভা বাতিল করায় কংগ্রেসের মনোভাব নিয়ে হতাশ বিরোধীদেরই একাংশ। কংগ্রেসের দাবি, ৪ সেপ্টেম্বর রাহুল গুজরাত যাচ্ছেন। তখন অবশ্য অন্য বিরোধী দলকে ডাকা হয়নি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৪:৩০
Share:

অমিত শাহ।

গুজরাতে বিরোধী জোটের সভা বাতিল করে রাহুল গাঁধী এখন বিদেশে। আর মোদী-রাজ্যে দেড়শোর বেশি আসন ঝুলিতে পুরতে পুরোদমে আসরে নেমে পড়লেন অমিত শাহ।

Advertisement

কথা ছিল গুজরাতের আদিবাসী এলাকায় সব বিরোধী দলকে একজোট করে আগামিকাল একটি বড় সভা করবেন রাহুল। অমিতের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে আহমেদ পটেলের জয়কে পুঁজি করে ঐক্যের ছবিটি আরও মজবুত করা হবে নরেন্দ্র মোদীর রাজ্যে। সেই মোতাবেক বিরোধী দলের নেতারা যাওয়ার তোড়জোড়ও করছিলেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকেও ডেরেক ও’ব্রায়েন যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাহুল বিদেশে থাকায় সেই সভা বাতিল করা হয়। শেষমুহূর্তে এই সভা বাতিল করায় কংগ্রেসের মনোভাব নিয়ে হতাশ বিরোধীদেরই একাংশ। কংগ্রেসের দাবি, ৪ সেপ্টেম্বর রাহুল গুজরাত যাচ্ছেন। তখন অবশ্য অন্য বিরোধী দলকে ডাকা হয়নি।

এই অবস্থায় আজ অমিত শাহ গুজরাতের কৌশল রচনায় আসরে নেমে পড়লেন। বৈঠক করলেন অরুণ জেটলি, নির্মলা সীতারামণ, ভূপেন্দ্র যাদবদের সঙ্গে। জেটলিকে পাঠাচ্ছেন গুজরাতে। ‘গর্জে গুজরাত’ স্লোগান তৈরি করে প্রচার শুরু
করতে। খোদ অমিত শাহও যাবেন সামনের মাসে। আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে ভোট ঘোষণার আগেই চারদিন কাটাবেন সেখানে। ১৭ সেপ্টেম্বর নিজের জন্মদিনটিও গুজরাতে কাটাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। অমিত জানান, ১৮২টি আসনের মধ্যে কম করে দেড়শো আসন পেতে হবে দলকে। সেটাই ‘মিশন ১৫০’।

Advertisement

এবিপি নিউজ লোকনীতি-সিএসডিসি আজ গুজরাতের ভোটের এক সমীক্ষা প্রকাশ করে। আজই ভোট হলে রাজ্যের ছবিটি কেমন হবে, তা নিয়ে ৫০টি আসনে এই সমীক্ষা হয়। তাতে দেখা যাচ্ছে আজ ভোট হলে গুজরাতে বিজেপি ১৪৪-১৫২টি আসন পাবে, কংগ্রেসের ঝুলিতে যাবে ২৬-৩২টি আসন।, অন্যরা ৩-৭টি আসন। ২০১২ সালে বিধানসভা ভোটে বিজেপি পেয়েছিল ১১৫ ও কংগ্রেস ৬১টি আসন। এ ধরনের সমীক্ষার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন আছে বটে। সব সময় ফল মেলেও না। কিন্তু জনতার মনোভাবের একটি আঁচ পাওয়া যায়। এই সমীক্ষা মিলে গেলে অমিত শাহের ‘মিশন ১৫০’ সত্য প্রমাণিত হতে পারে।

কংগ্রেসের অর্জুন মোধওয়ারিয়ার বক্তব্য, নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ গুজরাতে থাকার সময়ই ১১৫ আসন পেয়েছিল বিজেপি। এখন তাঁদের অনুপস্থিতিতে বন্যা, জিএসটির কুপ্রভাব, পটেল আন্দোলনের প্রভাবের পরে এই সংখ্যাটি কোনও ভাবেই বিজেপি পেতে পারে না। বিজেপির সম্বিত পাত্রের পাল্টা যুক্তি, লড়াইটি নরেন্দ্র মোদী বনাম রাহুল গাঁধীর। আর সেখানে মোদীর সামনে কোনও বিরোধী নেতা মুখ তুলে দাঁড়াতেই পারছেন না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement