—প্রতীকী চিত্র।
চলতি মাসেই একাধিক রাজ্যে রাজ্যসভা নির্বাচন হতে চলেছে। নির্বাচন রয়েছে মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকের বিধান পরিষদে। দুই নির্বাচনের প্রার্থী-নাম চূড়ান্ত করতে আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠকে বসলেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ, রাজনাথ সিংহ, জে পি নড্ডার মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন। বৈঠকে মোদী সরকারের বারো বছর পূর্তি উদ্যাপন কী ভাবে হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
এ মাসের ১৮ জুন দশ রাজ্যের ২৪টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। মূলত আসনগুলি ফাঁকা হচ্ছে গুজরাত, কর্নাটক, ঝাড়খণ্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, মেঘালয়, মিজোরাম থেকে। বিজেপির দখলে রয়েছে বারোটি আসন। একটি করে আসন রয়েছে এনডিএ শরিক জেডিএস ও টিডিপির দখলে। বর্তমানে রাজ্যসভায় বিজেপির সদস্য সংখ্যা ১১৩। এনডিএ-র সংখ্যা ১৪৯। যা ম্যাজিক সংখ্যার থেকে অনেকটাই বেশি। বর্তমানে বিভিন্ন রাজ্যে ক্ষমতার যে বিন্যাস, তাতে নিজেদের আসন ধরে রেখে আরও বাড়তি দু’তিনটি আসন জেতার লক্ষ্য নিয়েছে বিজেপি, যাতে আগামী দিনে একক ভাবে দল হিসেবেই রাজ্যসভায় ম্যাজিক সংখ্যা ছাপিয়ে যাওয়া যায়।
এ যাত্রায় শাসক শিবিরের একাধিক মন্ত্রী যাঁরা রাজ্যসভার সদস্য, তাঁদের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। ঘটনাচক্রে এ মাসেই মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হওয়ার জল্পনা রয়েছে। আগামী ৮ জুন রাজ্যসভার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। বিজেপি সূত্রের বক্তব্য, আজকের বৈঠকের পর কোন মন্ত্রীরা আগামী দিনে মন্ত্রিসভায় থেকে যাচ্ছেন, তা আগামী সাত দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যেতে চলেছে।
রাজ্যসভার নির্বাচন ছাড়াও মহারাষ্ট্রের ১৬টি ও কর্নাটকের সাতটি বিধান পরিষদের আসনে ১৮ জুন নির্বাচন হতে চলেছে। বিহারে নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় সে রাজ্যেও একটি বিধান পরিষদের আসন খালি হয়েছে। সূত্রের মতে, সেই আসনটি নীতীশের দল জেডিইউ-কে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্য দিকে মহারাষ্ট্রে ১৬টি আসনের মধ্যে ৭-৮টি নিজেদের প্রার্থীদের জন্য রেখে বাকি এনসিপি (অজিত) ও শিবসেনা (শিন্দে) গোষ্ঠীর জন্য ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে নীতিগত ভাবে রাজি হয়েছে বিজেপি। অন্য দিকে কর্নাটকে বিধান পরিষদের পাঁচটি আসনে লড়বে তারা। দু’টি আসন ছেড়ে দেওয়া হবে শরিক জেডিএসকে।
মোদী সরকারের বারো বছর পূর্তি উপলক্ষে কী ভাবে দেশ জুড়ে তা উদ্যাপন হবে, তা স্থির করতে আগামিকাল দেশের সব রাজ্যের বিজেপি সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। সূত্রের মতে, আজকের বৈঠকে নির্বাচনের বিষয়টি ছাড়াও উদ্যাপনের রূপরেখা কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী তথা গত বারো বছরের এনডিএ শাসনে দেশের যে সার্বিক উন্নয়ন হয়েছে সে সম্পর্কে ভোটারদের অবহিত করতে সব রাজ্যে ধারাবাহিক ভাবে সরকারি উদ্যোগে জনসচেতনতা অভিযান চালানো হবে। মানুষের কাছে সাফল্যের কথা তুলে ধরতে দলীয় কর্মীদেরও মাঠে নামানোর পরিকল্পনা আছে।
বিজেপি সূত্রের মতে, নিতিন নবীন সভাপতি হলেও এখনও নতুন ‘টিম’ ঘোষণা করেননি। আগামিকাল দলীয় বৈঠকের আগে আজ নিতিন নবীনের নিজস্ব ‘টিম’-এর রূপরেখা কী হবে, তা নিয়েও এক দফা আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকে অপেক্ষাকৃত কমবয়সি নেতাদের টিমে নেওয়ার উপরে জোর দিয়েছে দল। সূত্রের মতে, আসন্ন মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে একাধিক বিজেপি মন্ত্রীর কাজের খতিয়ানের ভিত্তিতে মন্ত্রক হারাতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তাঁদের সংগঠনের দায়িত্বে নিয়ে আসা হবে। অন্য দিকে সাংগঠনিক স্তরে ভাল কাজ করায় একাধিক মোর্চার নেতাকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে