নিহত তরুণী সিয়া। ছবি: সংগৃহীত।
সমাজমাধ্যমে পরিচয়। তার পর নিয়মিত কথোপকথন। সেখান থেকেই প্রেমের সম্পর্ক। আর সেই প্রেমের টানেই মহারাষ্ট্র ছেড়ে ভোপালে পাড়ি দেন বছর তেত্রিশের সিয়া। কিন্তু তিনি জানতেন না যাঁর টানে বাড়ি ছেড়ে ভোপালে চলে এসেছেন, তিনি বিবাহিত। ভোপালে প্রেমিকের বাড়িতে পৌঁছোতেই বাস্তবের মুখোমুখি হন সিয়া। জানতে পারেন, তাঁর প্রেমিক সমীর বিবাহিত। দুই সন্তান রয়েছে। এখান থেকেই অশান্তির সূত্রপাত। যার পরিণতি হয় হত্যা।
সিয়াকে খুনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর প্রমিক সমীর এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। ভোপালের নিশাতপুরা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাঙ্কে একটি বাক্সের ভিতর থেকে সিয়ার পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার খুন করা সিয়াকে। বৃহস্পতিবার কয়েক জন শিশু ওই সেপটিক ট্যাঙ্কের পাশে একটি ফাঁকা জায়গায় খেলছিল। তখন তারা পচা গন্ধ পায়। পাড়ার লোকেদের জানায় তারা। পাড়ার লোকেরা এসে দেখেন সেপটিক ট্যাঙ্কে পড়ে থাকা একটি বাক্স থেকে গন্ধ আসছে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন তাঁরা। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে বাক্সটি উদ্ধার করতেই স্তম্ভিত হয়ে যান এলাকাবাসীরা। দেখা যায়, বাক্সের ভিতরে এক মহিলার দেহ।
এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, দেহ এমন ভাবে পচে গিয়েছিল যে চেনার উপায় ছিল না। কিন্তু হাতে আঁকা ট্যাটু এবং তাতে লেখা ২৬ মে, ১৯৯২, এই সূত্র ধরেই মৃতের পরিচয় জানার চেষ্টা করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে মৃতের নাম সিয়া। তাঁর বাড়ি মহারাষ্ট্রের গোন্ডিয়া জেলায়। ইনস্টাগ্রামে ভোপালের নিশাতপুরের বাসিন্দা সমীরের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সেই টানে ভোপালে সমীরের বাড়িতে এসে ওঠেন সিয়া। তখন জানতে পারেন, সমীর বিবাহিত। কিন্তু সমীরের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে অস্বীকার করেন সিয়া। ফলে অশান্তি শুরু সমীরের স্ত্রীর সঙ্গে। প্রতিবেশীদের দাবি, নিত্য দিন সমীরের স্ত্রীর সঙ্গে সিয়ার অশান্তি হত। সমীরের পরিবারের দাবি, সিয়া হুমকি দেওয়া শুরু করেন। তাঁকে বিয়ে করার জন্য সমীরকে চাপ দিতে শুরু করেন। শুধু তা-ই নয়, পাঁচ লক্ষ টাকা দাবিও করেছিলেন। আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দেন। ফলে অশান্তি আরও চরমে ওঠে।
এই অশান্তির কারণে বাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে যান সমীরের স্ত্রী। সোমবার সিয়ার সঙ্গে সমীরের বচসা হয়। অভিযোগ, তার পরই সিয়াকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন সমীর, তাঁর ভাই, মা এবং বোন। তার পর তাঁর দেহ একটি বাক্সে ভরে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দিয়ে আসেন। বৃহস্পতিবার দেহ উদ্ধার হয় সিয়ার। ঘটনার পর থেকে পলাতক সমীর। তবে তাঁর মা, ভাই, বোনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সমীরের স্ত্রীকেও সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সিয়ার অতীতও বেশ ঝঞ্ঝাটময় ছিল। তাঁর তিনটি বিয়ে। মহারাষ্ট্র এবং রাজস্থানে বিয়ে করেছিলেন। সিয়ার সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।