প্রতীকী ছবি।
অসমের মাজুলিতে একের পর এক পরিযায়ী পাখির দেহ উদ্ধারে হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, কামারগাঁও এলাকায় একটি কৃষিজমি থেকে একসঙ্গে ৫০টি পাখির দেহ পাওয়া গিয়েছে। প্রাথমিক ভাব সন্দেহ করা হচ্ছে, বিষক্রিয়ার কারণে পাখিগুলির মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু নেপথ্য অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বন দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, খাবারের খোঁজে মাজুলির বিভিন্ন কৃষিজমিতে আসে পরিয়াযী পাখিগুলি। সন্দেহ করা হচ্ছে, কৃষিজমিতে কীটনাশক ছড়ানো হয়েছিল। সেই জমি থেকে খাবার খাওয়ার ফলেই পরিযায়ী পাখিগুলির মৃত্যু হয়েছে। শুধু কামারগাঁও নয়, দক্ষিণপত কুমারগাঁও, সুমোইমারি, রওয়ানাগাঁওয়েও পরিযায়ী পাখির মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। সবক’টি কি বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে? এ প্রসঙ্গে স্পষ্ট কোনও উত্তর না দিলেও ওই বনাধিকারিক জানিয়েছেন, সবক’টি মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আটটি পাখিকে রতনপুর পশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছে সেগুলির। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৭ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। ওই বনাধিকারিক বলেন, ‘‘প্রতি বছর শীতের মরসুমে মাজুলিতে খাবারের সন্ধানে দলে দলে পরিযায়ী পাখি আসে। সেখানে শীতের কয়েক মাস কাটানোর পর আবার ফিরে যায়। এই মরসুমে গত বছরের নভেম্বরেই পাখিগুলি এসেছে। সোমবার মাজুলির বেশ কয়েকটি গ্রাম থেকে পরিযায়ী পাখির মৃত্যুর খবর আসে। গ্রামবাসীদের দাবি, কয়েক জন পাখিগুলিকে বিষ খাইয়ে মেরেছেন।’’ রাজ্যের পরিবেশবিদ এবং পাখিপ্রেমীরা এই ঘটনায় ক্ষোভ এবং উষ্মা প্রকাশ করেছেন। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জোরালো হচ্ছে।