নিট কাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ। — ফাইল চিত্র।
ডাক্তারির সর্বভারতীয় অভিন্ন পরীক্ষা নিট-ইউজির পদার্থবিদ্যার প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছিলেন তিনিই! সেই অভিযোগে এ বার গ্রেফতার হলেন আরও এক অধ্যাপিকা। নিটের প্রশ্নপত্র তৈরির জন্য ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) যে প্যানেল তৈরি করেছিল, সেই প্যানেলেও ছিলেন তিনি। সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হলেন অভিযুক্ত সেই শিক্ষিকা মনীষা সঞ্জয় হাভালদার।
সিবিআই সূত্রে খবর, মনীষাও পুণের এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। এনটিএ তাঁকে প্রশ্নপত্র তৈরির প্যানেলে বিশেষজ্ঞ হিসাবে নিয়োগ করেছিল। সেই কারণে প্রশ্নপত্র পেতে কোনও অসুবিধা হয়নি তাঁর। নিটের পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল কি না, তা সিবিআই-কে খতিয়ে দেখতে বলেছিল এনটিএ। সেই তদন্ত উঠে আসে মনীষার নাম।
নিট-কাণ্ডে আরও এক মনীষাকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। পুণেরই শিক্ষক মনীষা গুরুনাথ মান্ধারেকে গ্রেফতার করে সিবিআই। মনীষা প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডের অন্যতম ‘মাথা’ বলে দাবি করেছিলেন তদন্তকারীরা। শুধু তা-ই নয়, পিভি কুলকার্নি নামে আরও এক শিক্ষকও সিবিআইয়ের জালে। ঘটনাচক্রে, এই দু’জনই ছিলেন নিটের প্রশ্ন তৈরির জন্য গঠিত কমিটিতে।
তদন্তকারীরা আগেই ইঙ্গিত পেয়েছিলেন যে, এনটিএ-র অন্দরেরই কেউ না কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তদন্ত এগোতেই কুলকার্নি এবং মান্ধারের হদিস পায় সিবিআই। আর এই দু’জন গ্রেফতার হওয়ার পর এনটিএ-র গোটা কমিটি তদন্তকারীদের আতশকাচের তলায় চলে আসে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার হলেন নিটের প্রশ্ন ফাঁসের আরও এক ‘মাথা’ মনীষা। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ঘিরে গোটা দেশে হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। গত ৩ মে ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি পরীক্ষা হয়। কিন্তু তার পরই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। ঘটনাচক্রে, ২০২৪ সালেও ঠিক একই রকম ভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। আবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতেই পরীক্ষার ন’দিনের মধ্যে তা বাতিল করে দেয় এনটিএ। আগামী ২১ জুন নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।