—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
পরিকাঠামোয় নরেন্দ্র মোদী সরকার গত তিন বছর ধরে রাজ্যগুলিকে বিশেষ অর্থ সাহায্য করছে। বিনা সুদে ৫০ বছরের জন্য ঋণ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার গত তিন বছরে এই খাতে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা পেয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় এই টাকা কোথায় খরচ হয়েছে, তা কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপি সরকার খতিয়ে দেখতে চাইছে। এর সঙ্গে রাজ্যের অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে কোষাগারের হাল নিয়ে নতুন বিজেপি সরকার ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করতে পারে।
সোমবারই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকের পরে মন্ত্রকের শীর্ষ সূত্র থেকে ইঙ্গিত মিলেছে, রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করতে পারে। অর্থ মন্ত্রকের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘‘কেরলে বাম সরকারকে হটিয়ে কংগ্রেসের সরকার ক্ষমতায় আসার পরে রাজ্যের কোষাগার তথা অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে সরকারকে হটিয়ে তলপতি বিজয়ের সরকার ক্ষমতায় এসেও শ্বেতপত্র তৈরির কাজ করছে। পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি সরকার একই রকম নথি প্রকাশ করতে পারে।’’
অর্থ মন্ত্রক সূত্রের ব্যাখ্যা, বঙ্গে ঋণের বোঝা বড় সমস্যা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে বলা হয়েছিল, চলতি অর্থ বছরে ঋণের বোঝা প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছবে। যা রাজ্যের জিডিপি-র প্রায় ৩৮ শতাংশ। অনেকখানি বেশি। এই প্রেক্ষিতে রাজ্য তার ঋণ নেওয়ার ঊর্ধ্বসীমার মধ্যে থেকে কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
কোভিডের ধাক্কা কাটিয়ে অর্থনীতিতে গতি আনতে ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে মোদী সরকার পরিকাঠামো-সহ মূলধনী খাতে খরচের জন্য রাজ্যগুলিকে বিশেষ আর্থিক সাহায্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পশ্চিমবঙ্গ এই খাতে ২০২৩-২৪-এ ৫,০১৫ কোটি টাকা, ২০২৪-২৫-এ ১০,৩০৫ কোটি টাকা এবং ২০২৫-২৬-এ প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা পেয়েছিল। অর্থ মন্ত্রক সূত্রের বক্তব্য, অন্যান্য রাজ্যে এই প্রকল্পের টাকা কী কাজে ব্যবহার হয়েছে, তা নিয়ে যেমন প্রচার হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে তেমন বিশেষ কিছু শোনা যায়নি।
সূত্রের খবর, সোমবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে প্রথমে শুভেন্দু অধিকারীর একান্তে বৈঠক হয়েছিল। তার পর কেন্দ্র ও রাজ্যের আমলারাও বৈঠকে যোগ দেন। সে সময় সীতারামন শুভেন্দুকে আশ্বাস দেন, পরিকাঠামোয় খরচের জন্য কেন্দ্রীয় অর্থ সাহায্য প্রকল্পে রাজ্যের দিক থেকে যে সব প্রস্তাব রয়েছে, সে বিষয়ে সাহায্য করা হবে। এই প্রকল্পে বিনা সুদে ঋণ পাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বেশ কিছু সংস্কারের শর্ত রেখেছিল। মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যে সেই সব সংস্কার রূপায়ণের কথাও বলেন অর্থমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সোমবার কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানের বৈঠকের পরেই কেন্দ্র জানিয়েছিল, চলতি জুন মাসেই মনরেগা প্রকল্পের মেয়াদ ফুরোচ্ছে। এই খাতে রাজ্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকা পাবে। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনাতেও রাজ্য প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পাবে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক জানিয়েছে, জুলাই মাস থেকে মনরেগা-র বদলে ভিবি-জি রাম জি প্রকল্প চালু হবে। গোটা দেশে এ জন্য ৯২,৫৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ হবে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ৮,৫০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ হবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে