—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
পেট্রল, ডিজ়েল কেনার উপর শিল্প-বাণিজ্য সংস্থাগুলির উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত। ১ জুলাই, বুধবার থেকে তা প্রত্যাহার করা হবে বলে জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। চলতি মাসে কেন্দ্রের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছিল, শিল্প-বাণিজ্য সংস্থাগুলি পেট্রল পাম্প থেকে একলপ্তে বেশি পরিমাণ পেট্রল-ডিজ়েল কিনতে পারবে না। এ বার সেই বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
একলপ্তে যারা বেশি পরিমাণ ডিজ়েল কেনে, তাদের ক্ষেত্রে তেলের দাম খুচরো গ্রাহকদের তুলনায় বেশ খানিকটা চড়া। তাই ওই ক্রেতারা তুলনায় কম দামে সাধারণ পাম্প থেকে বেশি করে তেল কেনেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিজ্ঞপ্তি জারি করে ওই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পেট্রল-ডিজ়েল কেনাবেচার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা জানানো হয়েছে।
সোমবারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পেট্রল, ডিজ়েল কেনার ব্যাপারে বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির উপর আরোপিত যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা ১ জুলাই থেকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কটের কারণে দেশের বাজারে পেট্রল, ডিজ়েলের চাহিদা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যায়। বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়ায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের সিংহভাগই বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে। হরমুজ় প্রণালীতে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে ভারতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। তবে কেন্দ্র বার বার দাবি করেছে, জ্বালানি বা রান্নার গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই। যথেষ্ট পরিমাণ জ্বালানি মজুত আছে।
আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে মউ স্বাক্ষরিত হওয়ার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিকের পথে। হরমুজ় প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত না-হলেও বেশির ভাগ পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে না। পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশীয় বাজারে জ্বালানি কেনাবেচার উপর চাপানো বিধিনিষেধ একে একে প্রত্যাহার করছে কেন্দ্র।
গত ১১ জুন কেন্দ্রের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছিল, ‘‘বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা গিয়েছে যে দেশের কিছু অংশে খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে মোটর স্পিরিট (পেট্রল) এবং হাইস্পিড ডিজেলের বিক্রি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটেছে, কারণ শিল্প, বাণিজ্যিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক উপভোক্তারা খুচরা ও বাল্ক বিক্রয়মূল্যের পার্থক্যের কারণে খুচরো বিক্রয়কেন্দ্র (পেট্রল পাম্প)-মুখী হয়েছেন। সেই প্রবণতা ঠেকাতে পেট্রল পাম্প থেকে বেশি পরিমাণ পেট্রল, ডিজ়েল কেনার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে।’’