Budget 2026

দুই বিল আনতেই কি স্বরাষ্ট্র-বিদেশ দ্রুত গিলোটিনে

সাধারণত অধিবেশন চলার সময়ে হাতে একেবারে কম সময় থাকলে, অথবা ধর্না-বিক্ষোভে সংসদ টানা অচল থাকলে এমন ভাবে গিলোটিনে সব মন্ত্রকের বাজেট এক ধাক্কায় পাশ করিয়ে থাকে সরকার।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ০৯:৫০
Share:

নরেন্দ্র মোদী। — ফাইল চিত্র।

হাতে অন্তত সাতটির বেশি কাজের দিন থাকা সত্ত্বেও রেল ও কৃষি ছাড়া বাকি সব মন্ত্রকের বাজেট আজ তড়িঘড়ি গিলোটিনে পাশ করিয়ে নিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। তার ফলে সংসদে স্বরাষ্ট্র বা বিদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। বিরোধী সূত্রের মতে, সম্ভবত আগামী সপ্তাহে এক বা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল আনতে চলেছে সরকার। সেই বিল নিয়ে আলোচনা চালাতেই আগেভাগে মন্ত্রকের বাজেট বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা শেষ করিয়ে রাখা হল।

সাধারণত অধিবেশন চলার সময়ে হাতে একেবারে কম সময় থাকলে, অথবা ধর্না-বিক্ষোভে সংসদ টানা অচল থাকলে এমন ভাবে গিলোটিনে সব মন্ত্রকের বাজেট এক ধাক্কায় পাশ করিয়ে থাকে সরকার। আজও সেই ছবি দেখা গেল লোকসভায়। গত কাল রেলের পরে আজ লোকসভায় কৃষি বাজেট নিয়ে আলোচনার পরেই সব মন্ত্রকের ব্যয়-বরাদ্দ পাশ করিয়ে দেন স্পিকার ওম বিড়লা। ফলে স্বরাষ্ট্র, বিদেশ, প্রতিরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকগুলি নিয়ে আজ আলোচনার কথা সংসদীয় কার্যবিবরণীতে থাকলেও দিনের শেষে সেগুলি নিয়ে আলোচনা হয়নি। স্পিকার বলেন, ‘‘আগামী ৩১ মার্চ অর্থবর্ষ শেষ হচ্ছে। তাই দ্রুত সমস্ত মন্ত্রকের ব্যয়-বরাদ্দ পাশ করিয়ে নেওয়া হল।’’ কিন্তু এর ফলে লাল কেল্লার সামনে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ হোক বা পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিস্থিতি, কোনও কিছু নিয়েই সরকারের জবাব চাওয়ার সুযোগ পেলেন না বিরোধীরা।

প্রশ্ন হল, হাতে যেখানে সাতের বেশি কাজের দিন রয়েছে, সেখানে কেন এত তাড়া সরকারের? বিরোধীদের মতে, সম্ভবত দু’টি বিল আগামী সপ্তাহে সংসদে পেশ হতে চলেছে। তার প্রথমটি সম্ভবত মহিলাদের জন্য আইনসভায় আসন সংরক্ষণ আইনের সংশোধনী বিল ও দ্বিতীয়টি ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউট (আইএসআই) বিল। আগামিকাল ও পরশু সংসদ বন্ধ। তাই আগামী সোমবার মহিলাদের আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিলটি সংসদে পেশের পক্ষপাতী কেন্দ্র। জনগণনার অপেক্ষা না-করেই নির্বাচনী ব্যবস্থায় মোট আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের সুযোগ যাতে মহিলারা পান, মূলত তা নিশ্চিত করতেই দ্রুত ওই সংশোধনী আনতে চায় মোদী সরকার। বিলটি এনে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে বার্তাও দিতে চায় এই রাজ্যের মহিলাদের। যদিও এর জন্য সংবিধান সংশোধন করতে হবে। তাই বিষয়টিতে বিরোধীদের সঙ্গে নিতে হলে বিল পেশের আগে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সর্বদল বৈঠকের দাবি তুলেছে একাধিক বিরোধী দল। সূত্রের মতে, সেই বৈঠক রবিবার হতে পারে। আজ রাতে রাজ্যসভার বিদায়ী সাংসদদের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতাকে জানান, মহিলাদের আসন সংরক্ষণ বিলটি নিয়ে একটি সর্বদল বৈঠকের চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই বৈঠকে তৃণমূলকে যোগ দিতে আহ্বান জানান খড়্গে। তৃণমূল বিষয়টিকে বাংলার ভোটের আগে কেন্দ্রের শাসক শিবিরের রাজনৈতিক পদক্ষেপ বলে ঘরোয়া ভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না। কিন্তু তারা ভালই বুঝতে পারছে, এই বিল নিয়ে ডাকা সর্বদল বৈঠক তারা এড়িয়ে গেলে বা সংসদে বিলটিকে সমর্থন না-করলে ভোটের আগে তৃণমূলকে ‘মহিলা-বিরোধী’ বলে আক্রমণের সুযোগ পেয়ে যাবে বিজেপি।

আইএসআই সংক্রান্ত বিলটি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। বিরোধীদের আশঙ্কা, ওই বিল পাশ হলে আইএসআই-এর মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বশাসন তথা প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা বলে কিছু থাকবে না। পুরোদস্তুর সরকার-নিয়ন্ত্রিত সংস্থা হয়ে গেলে ওই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদি মৌলিক গবেষণার চেয়ে বাণিজ্যিক প্রকল্পই বেশি গুরুত্ব পাবে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব তৃণমূল সাংসদেরা। যদিও বিজেপির যুক্তি, উচ্চশিক্ষার স্বার্থরক্ষা করতেই ওই বিলটি আনতে চাইছে সরকার পক্ষ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন