—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
চন্দননগরের বসু পরিবারের রুশ বৌমা ভিক্টোরিয়া ও তাঁর পাঁচ বছরের ছেলেকে দেশে ফেরাতে বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছেন। আজ কেন্দ্র সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে, বিদেশসচিব নিজে গত ২১ জানুয়ারি রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছেন। ভারত-রাশিয়ার মধ্যে পারস্পরিক আইনি সহযোগিতা চুক্তির ভিত্তিতে রাশিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবীদের বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভিক্টোরিয়া ও পাঁচ বছরের ছেলে এখন কোথায়, কী অবস্থায়, সেই তথ্যও চেয়েছে ভারত।
গত জুলাইয়ে মাসে পাঁচ বছরের ছেলেকে নিয়ে দিল্লি থেকে উধাও হয়ে যান ভিক্টোরিয়া বসু জিগালিনা। পরে দিল্লি পুলিশ জানতে পারে, তিনি দিল্লি থেকে গাড়ি করে বিহার দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে চলে যান। তার পরে কাঠমান্ডু হয়ে মস্কো যান। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভিক্টোরিয়ার উপরে দিল্লি পুলিশের নজরদারি চলছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভিক্টোরিয়া ও তাঁর স্বামী সৈকত বসুর কাছে তাঁদের ছেলে ভাগাভাগি করে থাকত। সেই নির্দেশ অমান্য করে ভিক্টোরিয়া ছেলেকে নিয়ে উধাও হয়ে যান।
গত ২১ জানুয়ারি দিল্লির সাকেত আদালত ভিক্টোরিয়ার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। আজ সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র জানিয়েছে, ভিক্টোরিয়ার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের ব্লু কর্নার নোটিস জারি করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ সাকেত আদালতে জানিয়েছিল, রুশ সরকার ভিক্টোরিয়ার কোনও খোঁজ জানে না বলে দাবি করেছে। নেপালের সরকার জানিয়েছে, গত বছরের ১১ জুলাই ভিক্টোরিয়া ও তাঁর পাঁচ বছরের ছেলে নেপালের বীরগঞ্জ সীমান্ত নিয়ে সে দেশে ঢুকেছিলেন। কিন্তু তাঁরা রাশিয়া থেকে এসেছিলেন বলে দেখানো হয়েছে। অথচ বীরগঞ্জ ভারতের সীমান্তবর্তী স্থলবন্দর।
সৈকতের সঙ্গে বিয়ের পরে ২০১৯ সালে ভারতে এসেছিলেন ভিক্টোরিয়া। সৈকত পরে জানতে পারেন, ভিক্টোরিয়ার বাবা প্রাক্তন রুশ গুপ্তচর। ভিক্টোরিয়া সৈকতের বাবা, প্রাক্তন ফৌজির কাছে কলকাতায় সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের সদর দফতরে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। সৈকত-ভিক্টোরিয়ার বিবাদ সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছলে গত মে মাসে আদালত তাঁদের ছেলেকে দিল্লিতে বাবা-মায়ের মধ্যে ভাগাভাগি করে রাখার নির্দেশ দেয়। জুলাইয়ে ভিক্টোরিয়া উধাও হয়ে যান।
আজ সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাট্টিকে বলে, রাশিয়ার প্রশাসনকে অনুরোধ করে সৈকত ও তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে শিশুপুত্রের ভিডিয়ো কনফারেন্সের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে। কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়ে যেতে বলেন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, ‘পরিস্থিতি জটিল হয়ে যাচ্ছে।’ এপ্রিলের শেষে এই মামলার ফের শুনানি হবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে