বন্দে মাতরমের মর্যাদা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনায় নরেন্দ্র মোদীর সরকার। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন অধিনায়ক’-এর মতো মর্যাদা কি পেতে পারে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ও? বিষয়টি বিবেচনা করে দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার। চলতি মাসেই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নেতৃত্বে বন্দে মাতরম নিয়ে উচ্চ স্তরের একটি বৈঠক হয়ে গিয়েছে। অন্য মন্ত্রকগুলির প্রতিনিধিরাও তাতে যোগ দিয়েছিলেন। জাতীয় সঙ্গীতের ক্ষেত্রে যেমন আইনি নিয়মকানুন নির্দিষ্ট করা আছে, জাতীয় গানের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হওয়া উচিত কি না, বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সূত্র উল্লেখ করে এই তথ্য জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দেশাত্মবোধক গান বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন চলছে। ১৮৭৫ সালে লেখা এই গান প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে। ১৮৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম এই গান গেয়েছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল বন্দে মাতরমের কথা ও ভাবনা। জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি দেশের সংবিধান এই গানকেও সমান মর্যাদা এবং স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে এটি পাঠ করা বা গাওয়ার জন্য আলাদা করে কোনও শিষ্টাচার, আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তা চালু করা প্রয়োজন কি না, ভেবে দেখছে কেন্দ্র।
বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর উপলক্ষে টানা এক বছর ধরে উদ্যাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে নভেম্বরে, দ্বিতীয় ধাপ চলতি মাসে হওয়ার কথা। তৃতীয় এবং শেষ ধাপের উদ্যাপন হবে যথাক্রমে ২০২৬ সালের অগস্ট এবং নভেম্বরে। জাতীয় গানের মর্যাদা বৃদ্ধির পক্ষে বার বার সওয়াল করে এসেছে বিজেপি। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তারা এই গানের গুরুত্বপূর্ণ স্তবক বাতিল করার অভিযোগও তুলেছে। সূত্রের খবর, দিল্লির বৈঠকের আয়োজন করেছিল অমিত শাহের মন্ত্রকই। তাতে যোগ দিয়েছিলেন একাধিক সিনিয়র আধিকারিক, অন্যান্য মন্ত্রকের কর্তাব্যক্তিরা। কোন পরিস্থিতিতে বন্দে মাতরম গাওয়া উচিত, জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে সঙ্গেই এই গানও গাওয়া উচিত কি না, জাতীয় সঙ্গীতের মতো এই গানের অবমাননাতেও শাস্তি নির্ধারিত হওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনও সরকারি ভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
জাতীয় গান নিয়ে সাম্প্রতিক অতীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আদালতে একাধিক মামলা হয়েছে। এই গান পরিবেশনের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো চেয়ে এবং ১৯৭১ সালের জাতীয় অবমাননা আইনে শাস্তি নির্ধারণ চেয়ে বেশ কিছু আবেদন জমা পড়েছে আদালতে। ২০২২ সালে এমনই একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র জানিয়েছিল, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনে বাধা দেওয়া বা পরিবেশনের সময় অশান্তি করা আইনত অপরাধ। কিন্তু বন্দে মাতরমের জন্য তেমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।
মর্যাদা অনুযায়ী জাতীয় সঙ্গীত একটি সাংবিধানিক এবং আইনগত সুরক্ষা ভোগ করে। ভারতীয় সংবিধানের ৫১এ ধারায় বলা হয়েছে, জাতীয় সঙ্গীতকে সম্মান করা প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক কর্তব্য। এর পরিবেশন এবং ব্যবহার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বলা হয়েছে, যে কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হলে উঠে দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক। জনগণমনর কোনও বিকৃত বা অন্য ধরনের নির্মাণও নিষিদ্ধ। এই গান পরিবেশনে কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে বাধা দিলে তাঁকে শাস্তি পেতে হয়। সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডও হতে পারে। বন্দে মাতরমের ক্ষেত্রে তেমন কোনও নির্দেশিকা আসে কি না, সময় বলবে।