Restrictions on Sugar Export

এ বার চিনি রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি কেন্দ্রের

প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে এত দিন মোদী সরকার দেশে সারের অভাব নেই এবং খরিফ মরসুমে সারের অভাব হবে না বলে কেন দাবি করছিল?

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ ১০:৪৫
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের জেরে এ বার চিনি রফতানি নিষিদ্ধ করল নরেন্দ্র মোদী সরকার। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চিনি রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বর্ষা ঠিক মতো না হলে এবং সারের অভাব হলে দেশে চিনির উৎপাদন কমতে পারে, টান পড়তে পারে জোগানে। সেই আশঙ্কা থেকেই মোদী সরকার আগেভাগে চিনি রফতানি নিষিদ্ধ করেছে।

প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে এত দিন মোদী সরকার দেশে সারের অভাব নেই এবং খরিফ মরসুমে সারের অভাব হবে না বলে কেন দাবি করছিল? গত আড়াই মাস ধরে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ চললেও মোদী সরকার এত দিন দাবি করেছে, অশোধিত তেল, পেট্রল, ডিজ়েলের অভাব নেই। কিন্তু এখন মোদী নিজেই পেট্রল, ডিজ়েল থেকে সোনা কেনা কমাতে বলছেন। কারণ ডলারে টান পড়ছে। বুধবার মোদী সরকার সোনা আমদানিতে শুল্ক চাপিয়েছিল। বৃহস্পতিবার সোনা আমদানিতে নানা বিধিনিষেধও জারি করেছে। এ বার বিধিনিষেধ জারি হল চিনি রফতানিতে। সরকারি সূত্রের যুক্তি, ২০২৫-২৬ (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর)-এ চিনি উৎপাদন ২৭৫ লক্ষ টন হবে বলে অনুমান। আগে থেকেই ৫০ লক্ষ টন মজুত রয়েছে। ফলে মোট ৩২৫ লক্ষ টন চিনি থাকলে দেশের বাজারে ২৮০ লক্ষ টন চিনির চাহিদা মেটানো যায়। কিন্তু সে ক্ষেত্রে মরসুমের শেষে মজুত চিনির পরিমাণ ৪৫ লক্ষ টনে নেমে যাবে। ২০১৬-১৭-র পরে মজুত চিনির পরিমাণ এত কম হয়নি। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি ও পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে সারের জোগানে ঘাটতি হবে ভেবে ঝুঁকি না নিয়ে রফতানি বন্ধ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পেট্রলিয়াম মন্ত্রক দাবি করেছে, দেশে অশোধিত তেল, পেট্রল, ডিজ়েল, রান্নার গ্যাসের ঘাটতি নেই। বুধবার হরমুজ় প্রণালী পার হয়ে দু’টি এলপিজি ভর্তি জাহাজ ভারতের দিকে রওনা হয়েছে। মার্শাল আইল্যান্ডের জাহাজ সাইমি ও ভিয়েতনামের জাহাজ এনভি সানশাইন এসে পৌঁছবে কান্ডলা ও নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দরে। কেন্দ্রীয় সরকার তেল-গ্যাসের অভাব নেই বলে দাবি করলেও প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানির খরচ কমানোর বার্তা মেনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিভিন্ন বিজেপি-শাসিত রাজ্যের রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রীরা তাঁদের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে চলেছেন। গত বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি খরচ কমানোর কথা বলেছিলেন। আগামী সপ্তাহে ২১ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। যেখানে পূর্ণমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীরাও হাজির থাকবেন।

জ্বালানি বাঁচাতে দিল্লির সরকার সপ্তাহে দু’দিন বাড়ি থেকে কাজ বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর নিয়ম চালু করেছে। কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকেও জ্বালানির খরচ কমানো ও ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর উপায় খুঁজতে বলা হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন