রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার। —ফাইল চিত্র।
রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার বুকিংয়ের নিয়ম বদলেও কি ঢোঁক গিলল কেন্দ্র? মঙ্গলবার সকালে বিবৃতি প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানাল, গ্যাস সিলিন্ডার বুকিংয়ের ব্যবধানে কোনও বদল হয়নি। আগে যা ছিল, তা-ই রয়েছে। অথচ সিলিন্ডার সরবরাহকারীদের সংগঠনের দাবি, মঙ্গলবারই তাদের হোয়াট্সঅ্যাপ করে নতুন ‘নির্দেশ’ জানানো হয়েছিল। বুধবার সকালে তাঁরা দেখেন, সেই হোয়াট্সঅ্যাপ বার্তা মুছে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবারের ওই ‘নির্দেশ’-এর কথা চাউর হতেই দেশব্যাপী শোরগোল পড়ে যায়। সাধারণ জনতার মধ্যে উদ্বেগও দানা বাঁধতে থাকে। এরই মধ্যে বুধবার সকালে পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, কিছু সংবাদমাধ্যম এবং সমাজমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, এলপিজি (রান্নার গ্যাস) সিলিন্ডার বুকিংয়ের সময়সীমা বদলে গিয়েছে। কী কী ধরনের পরিবর্তনের খবর ছড়িয়েছে বলে কেন্দ্রের নজরে এসেছে, তা-ও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
তিন ধরনের বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সময়ের ব্যবধানের কথা কেন্দ্রের নজরে এসেছে বলে জানানো হয় বিবৃতিতে। প্রথম, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকদের ক্ষেত্রে দু’টি সিলিন্ডার বুকিংয়ের মাঝে ব্যবধান করা হয়েছে ৪৫ দিন। দ্বিতীয়, যাঁরা উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহক নন, তাঁরা একটিই সিলিন্ডার ব্যবহার করলে বুকিংয়ের ব্যবধান থাকবে ২৫ দিন। তৃতীয়, তাঁরা দু’টি সিলিন্ডার ব্যবহার করলে ব্যবধান হবে ৩৫ দিন। তবে কেন্দ্রের বক্তব্য, এমন কোনও পরিবর্তনই করেনি তারা। কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, গ্যাস সিলিন্ডার বুকিংয়ের মাঝে সময়ের ব্যবধান এত দিন যা ছিল, তা-ই রয়েছে। এবং তা-ই চলবে।
বর্তমানে কী নিয়ম রয়েছে, তা-ও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে কেন্দ্র। বলা হয়েছে, শহরাঞ্চলের ক্ষেত্রে দু’টি সিলিন্ডার বুকিংয়ের মাঝে ব্যবধান থাকবে ২৫ দিন। গ্রামাঞ্চলের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান থাকবে ৪৫ দিন। সকল ধরনের এলপিজি-সংযোগের ক্ষেত্রেই এই নিয়মই কার্যকর বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। অর্থাৎ, গ্রাহক কোন ধরনের এলপিজি-সংযোগ ব্যবহার করছেন, তিনি একটিই সিলিন্ডার ব্যবহার করেন, না কি দু’টি— এ সবের উপরে বুকিংয়ের সময়ের ব্যবধান নির্ভর করবে না।
তবে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহকারীদের সংগঠন মঙ্গলবার জানিয়েছিল, দু’টি সিলিন্ডার বুকিংয়ে মাঝে সময়ের ব্যবধানে পরিবর্তন হয়েছে। উজ্জ্বলা যোজনার অধীনে নন এমন গ্রাহক, যাঁদের ডবল সিলিন্ডার রয়েছে, তাঁদের সিলিন্ডার বুকিংয়ের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩৫ দিন করা হয়েছে। অর্থাৎ একটি সিলিন্ডার বুক করার অন্তত ৩৫ দিন পর দ্বিতীয়টি বুক করা যাবে। একই সঙ্গে এ-ও জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকেরা একটি সিলিন্ডার বুক করার ৪৫ দিনের মাথায় পরেরটি বুক করতে পারবেন। তার আগে তাঁরা নতুন সিলিন্ডার বুক করতে পারবেন না। এর আগে এই সময়সীমা ছিল ২৫ দিন।
এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরে বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের একটি বিবৃতি প্রকাশ করে পিআইবি। সেখানে বলা হয়, গ্যাস বুকিংয়ের সময়ের ব্যবধান বদলের যে তথ্য প্রকাশ্যে এসেছিল, তা ভুল। একই সঙ্গে এ-ও বলা হল, কেউ যেন আতঙ্কিত হয়ে অপ্রয়োজনীয় গ্যাস বুকিং না-করেন। দেশে পর্যাপ্ত এলপিজি মজুত রয়েছে এবং উদ্বেগের কোনও কারণ নেই বলেই জানাচ্ছে মন্ত্রক।
কেন্দ্রের এই বিবৃতি প্রকাশ্যে আসার পর সিলিন্ডার সরবরাহকারী সংগঠন জানাচ্ছে, নতুন নিয়মের ‘নির্দেশ’ তাদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। সেই ‘নির্দেশ’-এর প্রেক্ষিতেই তারা নতুন নিয়মের কথা জানিয়েছিল। ইন্ডেন এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশন অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল-এর মুখপাত্র বিজন বিশ্বাস বলেন, “সিস্টেমটা এমন করে দেওয়া হয়েছে যেখানে শহরে ৩৫ দিন এবং গ্রামীণ ক্ষেত্রে ৪৫ দিন ছাড়া বুকিং করা যাবে না। সিস্টেমটা এ রকম করে দেওয়া হয়, তা হলে আমরা সে ভাবেই পরিষেবা দিতে পারব। এখন অন্য কথা বললে চলবে না। হোয়াট্সঅ্যাপ মারফত আমাদের কাছে যে বার্তা পাঠানো হয়েছিল। সেই বার্তাটিও দেখলাম আজ সকালে মুছে দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের কী করণীয়?”
বস্তুত, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে দফায় দফায় সিলিন্ডার বুকিয়ের মাঝে ব্যবধানের নিয়ম সংশোধন করেছে কেন্দ্র। প্রথমে বলা হয়েছিল, একটি সিলিন্ডার বুক করার ২১ দিন পর দ্বিতীয় সিলিন্ডার বুক করা যাবে। তার কিছু দিনের মধ্যেই ব্যবধান বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়। পরে আবার জানানো হয়, ২৫ দিনের ব্যবধান কেবল শহরাঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। গ্রামে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বুক করার অন্তত ৪৫ দিন পর দ্বিতীয় সিলিন্ডারটি বুক করা যাবে। কেন্দ্রের বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত এই নিয়মটিই চালু রয়েছে। নতুন করে আর কোনও বদল হয়নি।