পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলছে এসআইআর প্রক্রিয়া। —ফাইল চিত্র।
বিশুদ্ধ ভোটার তালিকাই শক্তিশালী গণতন্ত্রের চাবিকাঠি। বিহারের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার (এসআইআর) উল্লেখ করে এমনটাই দাবি করলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বুধবার দিল্লিতে নির্বাচন পরিচালনা সংস্থাগুলির আন্তর্জাতিক একটি সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই এসআইআর-এর প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর দাবি, গত বছর বিহারের এসআইআর-এ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া বা নতুন নাম যোগ করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে একটি অভিযোগও আসেনি। দু’দফার ভোটে একটি বুথেও পুনর্নিবাচনের নির্দেশ দিতে হয়নি। সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তা সম্ভব হয়েছে এসআইআর-এর জন্য।
জ্ঞানেশ বলেছেন, ‘‘আইন অনুযায়ী প্রত্যেক ভোটারের নাম-সহ বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা গণতন্ত্র এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার চাবিকাঠি।’’ বিহারে সুষ্ঠু ভাবে এসআইআর সম্পন্ন হয়েছে বলেই সেখানে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, দাবি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের। তবে সুপ্রিম কোর্ট এই প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলেছে। আদালতে প্রশ্ন উঠেছে কমিশনের এক্তিয়ার নিয়েও।
বিহার-সহ একাধিক রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া চালু করার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যে একগুচ্ছ মামলা হয়েছিল, বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে তার চূড়ান্ত পর্যায়ের শুনানি হয়েছে। সেখানেই প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম থাকছে না, তাঁদের উপর বিশেষ নিবিড় সংশোধনের গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার বাইরে নির্বাচন কমিশন অবিচ্ছিন্ন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে কি না, প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি বাগচী।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় মোট ১১টি নথির কথা জানিয়েছে কমিশন। ফর্ম ৬-এ সাতটি নথির উল্লেখ রয়েছে। কমিশন কি নির্ধারিত তালিকায় নথির সংখ্যা যোগ করতে বা বাদ দিতে পারে? ফর্ম ৬-এর নথিগুলিও সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া যায়? প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতিরা। বুধবার এই সংক্রান্ত শুনানি সম্পূর্ণ হয়নি। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতে ফের শুনানি রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। বিরোধী দলগুলি প্রথম থেকেই এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সরব। পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল দাবি করেছে, বৈধ ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য কমিশনের সঙ্গে চক্রান্ত করেছে বিজেপি। সাধারণ মানুষকে তাই হেনস্থা করা হচ্ছে। তবে বিজেপি বা কমিশন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দাবি, কোনও বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে না।