ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। — ফাইল চিত্র।
সহমর্মিতা ছাড়া আইন স্বৈরাচার। অন্য দিকে, আইন ছাড়া সহমর্মিতা বিশৃঙ্খলার শামিল। রবিবার গোয়া সরকারের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমনটাই বললেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। কথা বললেন মাদকের সূদূরপ্রসারী অপব্যবহার নিয়েও।
রবিবার ছিল মাদকের অপব্যবহার নিয়ে গোয়া সরকারের আইন বিভাগের আয়োজিত ৩০ দিনের বিশেষ সচেতনতা অভিযানের সমাপ্তি অনুষ্ঠান। কলা অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রধান বিচারপতি। ছিলেন গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সবন্ত, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জেকে মহেশ্বরী এবং বিচারপতি মনমোহন, বম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি চন্দ্রশেখর প্রমুখ। সেখানেই ভাষণ দিতে গিয়ে বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘মাদকের অপব্যবহারের পাশাপাশি দেশের আইনব্যবস্থার সঙ্গে সামাজিক পরিবর্তনের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও কথা বলা প্রয়োজন। গত চার দশকে আমি আমাদের বিচারব্যবস্থার আমূল বিবর্তন দেখেছি। আমি দেখেছি যে, বিচারব্যবস্থা স্বীকার করে যে সহমর্মিতা ছাড়া আইন স্বৈরাচারে পরিণত হয়। তেমনই আইন ছাড়া সহমর্মিতাও বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়।’’
মাদক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, মাদকের অপব্যবহার শুধু একটি ফৌজদারি সমস্যা নয়, বরং এটি একটি সামাজিক, মানসিক এবং চিকিৎসাগত সমস্যা। মাদক শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নয়, বরং সামগ্রিক ভাবে সমাজেও পচন ধরিয়ে দেয়। এ জন্য সতেনতামূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন। গোয়ার আইন বিভাগের আয়োজিত মাসব্যাপী প্রচার তা করতে অনেকটাই সক্ষম হয়েছে বলে জানান তিনি। মাদকের অপব্যবহার নিয়ে অল্পবয়সি পড়ুয়াদের মধ্যেও সচেতনতা জাগানো সম্ভব হয়েছে। জনগণের মনে ভয় না জাগিয়েও তাদের সংবেদনশীল করে তুলতে পেরেছে এই অভিযান।