দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকায় ফের সিএনজি-র দাম বাড়ল। শুক্রবার দেশের রাজধানীতে এই জ্বালানির দাম প্রতি কেজিতে দু’টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে তা আরও এক টাকা বাড়ানো হল। অর্থাৎ, তিন দিনে এক কেজি সিএনজি-র দাম বাড়ল তিন টাকা।
দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকায় (এনসিআর) অটো এবং ক্যাবের জ্বালানি হিসাবে সিএনজি ব্যবহৃত হয়। সিএনজি-র মূল্যবৃদ্ধির কারণে অটো এবং ক্যাবের ভাড়া বাড়তে পারে বলে মনে করছেন যাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দিল্লিতে এক কেজি সিএনজি-র দাম ছিল ৭৭ টাকা ৯ পয়সা। শুক্রবার সকাল থেকে দু’টাকা দাম বেড়ে তা হয় ৭৯ টাকা ৯ পয়সা। রবিবার থেকে সিএনজি-র বর্ধিত মূল্য হল ৮০ টাকা ৯ পয়সা। নয়ডা এবং গাজিয়াবাদে এক কেজি সিএনজি-র দাম হয়েছে ৮৮ টাকা ৭০ পয়সা। মুজফ্ফরনগর এবং মেরঠে পরিবর্তিত দাম ৮৮ টাকা ৫৮ পয়সা আর গুরুগ্রামে ৮৫ টাকা ১২ পয়সা।
পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতার কারণে গোটা বিশ্বেই জ্বালানি সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরান এবং ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় তুলনায় কম জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কার ওই জলপথ ধরে ভারতে আসছে। ফলে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে জ্বালানির দাম। শুক্রবারই লিটার প্রতি তিন টাকা দাম বেড়েছে পেট্রল এবং ডিজ়েলের।
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার আবহে প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই দেশবাসীকে কৃচ্ছ্রসাধনের বার্তা দিয়েছেন। পেট্রল, ডিজ়েল, রান্নার গ্যাস, ভোজ্য তেল, সোনা, তামা, রাসায়নিক সার— এই পণ্যগুলির একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় ভারতকে। টান পড়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডারে। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার মাঝে এই পণ্যগুলি সংযমী হয়ে ব্যবহারের অনুরোধ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ঘটনাচক্রে, তার কিছু দিনের মধ্যেই দাম বেড়েছে পেট্রল-ডিজ়েলের।
শুক্রবারের আগে মুম্বইয়েও সিএনজি-র দাম বাড়ানো হয়েছে। দেশের বাণিজ্যনগরীতে এখন এক কেজি সিএনজি-র দাম ৮৪ টাকা। সিএনজি-র মূল্যবৃদ্ধির পরেই মুম্বইয়ের অটোচালকেরা ভাড়াবৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ন্যূনতম ভাড়া অন্তত ২৬ টাকা করা হোক। দিল্লিতেও সিএনজিচালিত গণপরিবহণগুলির ভাড়া বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দিল্লি, মুম্বই বাদে দেশের অন্য বড় শহরগুলিতে সিএনজি-র দাম অবশ্য এখনও পর্যন্ত অপরিবর্তিতই রয়েছে।