শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। ছবি: পিটিআই।
দিল্লির যন্তরমন্তরে শনিবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-কে কর্মসূচি করার অনুমতি দিল পুলিশ। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে সেখানে প্রতিবাদে শামিল হবেন সমর্থকেরা। যদিও সিজেপি জানিয়েছিল, অনুমতি না মিললেও শান্তিপূর্ণ ভাবে জমায়েত করবেন তাঁরা। সে জন্য সমর্থকদের জাতীয় পতাকা এবং বই হাতে সেখানে পৌঁছোনোর ডাকও দিয়েছে সংগঠন। প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ইতিমধ্যেই আমেরিকা থেকে দিল্লি এসে পৌঁছেছেন।
কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিতে শুক্রবার রাতে দিল্লি বিমানবন্দরে নেমেছেন দীপকে। সেখানেই তাঁর সঙ্গে দেখা করেন দিল্লি পুলিশের আধিকারিকেরা। তাঁকে যন্তরমন্তরে কর্মসূচি করার অনুমতি দেয় দিল্লি পুলিশ। শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কর্মসূচি করা যাবে। পুলিশ সেই অনুমতি দেওয়ার পরে সমর্থকদের সরাসরি যন্তরমন্তরে হাজির হতে বলেন দীপকে। আগে যদিও অনুমতি আদায়ের জন্য সমর্থকদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় জড়ো হতে বলেছিলেন তিনি। বিমানবন্দর থেকে সংবিধান প্রণেতা বিআর অম্বেডকরের আত্মজীবনী হাতে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় দীপকেকে।
‘ককরোচ’ পার্টির কর্মসূচির জন্য যন্তরমন্তরে কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন করেছে পুলিশ। অন্তত দু’হাজার পুলিশকর্মী সেখানে রয়েছেন। সংগঠনের তরফে সমর্থকদের বলা হয়েছে, কর্মসূচিস্থলে সমস্ত পদক্ষেপের ভিডিয়ো করতে হবে। পুলিশের কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলেই ভিডিয়ো করতে হবে। পাশাপাশি সমর্থকদের বই এবং জাতীয় পতাকা নিয়ে যন্তরমন্তরে হাজির হতে বলা হয়েছে। সকলের শিক্ষার দাবিতে সেই বই হাতে রাখতে বলা হয়েছে। সংগঠনের তরফে এ-ও জানানো হয়েছে, কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ। একা না এসে বন্ধু, পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে আসতে বলা হয়েছে যন্তরমন্তরে। কোনও ট্রোল বা প্ররোচনায় পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ করতে হবে, এটাই বার্তা দীপকেদের। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, গরম থেকে বাঁচতে সানস্ক্রিন মেখে, জল খেয়ে প্রতিবাদস্থলে পৌঁছোতে হবে। আগে পেটভরে খেয়েও নিতে হবে।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দেশের যুব সম্প্রদায়ের একাংশকে ‘আরশোলা’ এবং ‘পরজীবী’ বলে উল্লেখ করার পরে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। প্রধান বিচারপতির মতে, ওই তরুণ-তরুণীরা অন্য কোনও পেশায় স্থান না পেয়ে সাংবাদিক, সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী বা তথ্যের অধিকার কর্মী হিসাবে কাজ শুরু করেন ও সকলকে আক্রমণ করেন। প্রধান বিচারপতির ওই মন্তব্যের পর গত ১৬ মে সিজেপির পথচলা শুরু। ‘অনলাইন স্যাটায়ার মুভমেন্ট’ (ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন) হিসাবে পথ চলা শুরু করার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয় হয় সিজেপি।
নিটের প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদে শামিল হয় যুবসমাজ। সমর্থন জানান প্রযুক্তিবিদ দীপকেও। এ-ও জানান, নিট-আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকতে দেশে ফিরবেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও জোরালো করে তোলেন। এক্স হ্যান্ডলে এক ভিডিয়োবার্তায় অভিজিৎ বলেন, ‘‘এখন সময় এসেছে আমাদের সকলকে ভারতের সংবিধানের পথ অনুসরণ করে একত্রিত হওয়ার। শান্তিপূর্ণ ভাবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আওয়াজ তুলতে হবে।’’ তিনি নিজের গ্রেফতারির আশঙ্কাও প্রকাশ করেন। তবে এ-ও বলেন, ‘‘আমরা আর কত দিন ভয়ে থাকব? এই দেশ কোনও এক দলের নয়। দেশ আমাদের সকলের।’’