মোদীর পাক নীতিকে দুষছে কংগ্রেস

নওয়াজ শরিফের জন্মদিনে লাহৌর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাটকীয় অবতরণের ছবিটা এখনও টাটকা! কিন্তু তার কয়েক দিন পরেই পাঠানকোটে বায়ুসেনা ঘাঁটিতে জইশ জঙ্গিদের হামলা ঘরোয়া রাজনীতিতে বিরোধীদের হাতে এ বার বড় অস্ত্র তুলে দিল। কংগ্রেস আজ প্রশ্ন তুলেছে, তা হলে কি নওয়াজের বাড়ি বয়ে গিয়ে মোদীর বৈঠক শুধুই ‘চিত্র সংবাদ’ ছিল?

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০১৬ ০৩:৪৮
Share:

নওয়াজ শরিফের জন্মদিনে লাহৌর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাটকীয় অবতরণের ছবিটা এখনও টাটকা! কিন্তু তার কয়েক দিন পরেই পাঠানকোটে বায়ুসেনা ঘাঁটিতে জইশ জঙ্গিদের হামলা ঘরোয়া রাজনীতিতে বিরোধীদের হাতে এ বার বড় অস্ত্র তুলে দিল। কংগ্রেস আজ প্রশ্ন তুলেছে, তা হলে কি নওয়াজের বাড়ি বয়ে গিয়ে মোদীর বৈঠক শুধুই ‘চিত্র সংবাদ’ ছিল? সন্ত্রাস দমন নিয়ে আলোচনাই করেননি মোদী!

Advertisement

কূটনীতিকরা বলছেন, পাকিস্তান এবং তাদের মদতপুষ্ট ভারত-বিরোধী সন্ত্রাসের বিষয়টি ভারতীয় রাজনীতিতে বরাবরই প্রাসঙ্গিক। এই সে দিনই বিহার ভোটের প্রচারে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেছিলেন, বিহারে বিজেপি হারলে পাকিস্তানে আতসবাজি ফাটবে! এ ছাড়া কখনও এই বিষয়টিকে অস্ত্র করে শাসকদল জাতীয়বাদের হাওয়া পালে টানতে চায়। কখনও সন্ত্রাস প্রশ্নে সরকারের ব্যর্থতার সুযোগ নিতে চান বিরোধীরা। যেমন মনমোহন সিংহ প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদীই প্রশ্ন তুলতেন, পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসের ঘটনা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও কেন ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি? কিন্তু কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর সেই মোদীই পাক নীতি বদলে ফেলছেন। তিনি এখন শুধু বিভিন্ন সম্মেলনে শরিফের সঙ্গে কথাই বলছেন না, সকলকে চমকে দিয়ে বড়দিনের দিন সটান নওয়াজের বাড়িতেই চলে যান। পাঠানকোটে হামলার পরে প্রধানমন্ত্রীর এই ‘বাড়াবাড়িকে’ কটাক্ষ করে কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা আজ বলেন, ‘‘এই প্রধানমন্ত্রীই বলতেন, সন্ত্রাস ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না! এ বার তিনি কী করবেন?’’

শর্মার দাবি, কংগ্রেস সরকারে থাকার সময়েও সন্ত্রাস নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে কথার পক্ষপাতী ছিল। এখনও তাকে সমর্থন করে। ফারাক হল, মনমোহন জমানায় সন্ত্রাসের বিষয়টি বার বার আলোচনায় পাকিস্তানকে চাপে ফেলা হয়েছে। তা ছাড়া সীমান্তে সন্ত্রাস ও অনুপ্রবেশও কমেছিল। কিন্তু কেন্দ্রে মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর কেন্দ্রে পাক নীতি জুড়ে রয়েছে কেবলই নাটুকেপনা। তার মধ্যেই সন্ত্রাস ও সংঘর্ষবিরতির শর্ত লঙ্ঘন হচ্ছে। এখনও সীমান্তে ৯০০ বার সংঘর্ষবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছেন ইসলামাবাদ। শর্মার কথায়, ‘‘রাষ্ট্রতন্ত্র কী ভাবে কাজ করে তা মোদী বুঝে উঠতে পারছেন না। মোদী সরকারের পাক নীতির ধারাবাহিকতা নেই। নেই পরিমিতি বোধও।’’

Advertisement

কাল রাতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ জানিয়েছিলেন, জঙ্গিদের খতম করে অভিযান শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আজও সংঘর্ষ জারি ছিল। এই বিষয়ে কংগ্রেস নেতা রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা বলেন, ‘‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেই যদি অভিযানের খবর ঠিক মতো না থাকে তা হলে সমন্বয়ের ছবিটা যে কতটা করুণ, তা স্পষ্ট।’’ তিনি বলেন, ‘‘পাঠানকোটের ঘটনা প্রমাণ করল মোদীর সঙ্গে কথাকে নওয়াজের প্রশাসন ও পাক সেনাবাহিনী সমর্থন করেনি। নয়াদিল্লির তা ভাবা উচিত ছিল।’’

কেন্দ্রের এই ব্যর্থতার কথা অসম, পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটেরও তুলে ধরবে কংগ্রেস। তবে কংগ্রেস বেশি উৎসাহী পঞ্জাব নিয়ে। পঞ্জাবে অকালি-বিজেপি সরকার জনপ্রিয়তা খোয়াচ্ছে। এক বছর বাদে সেখানে ভোট। সে দিক দিয়ে পাঠানকোটের ঘটনা কংগ্রেসের অস্ত্রাগার সমৃদ্ধ করল বইকি।

তবে কংগ্রেসে একটি উদ্বেগও রয়েছে। দলের এক কেন্দ্রীয় নেতার মতে, নওয়াজের সঙ্গে মোদীর দহরম মহরমে বাজপেয়ী জমানায় লাহৌর বাসযাত্রা কাণ্ডের ছায়া দেখা যাচ্ছে। কারণ, লাহৌর বাসযাত্রার পরেই হয়কার্গিল যুদ্ধ। পরে অপারেশন পরাক্রমের নামে রাজস্থানের পাক সীমান্তে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় সেনা মোতায়েন করে বাজপেয়ী সরকার জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কংগ্রেস নেতাদের একাংশের আশঙ্কা, মোদী সরকারের মেয়াদ শেষ হতে হতে পাকিস্তানের সঙ্গে তেমনই সংঘর্ষের পথে হাঁটতে পারে দিল্লি। সুরজেওয়ালা বলেন, ‘‘সরকারের উচিত গোয়েন্দা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকরী করা। তা ছাড়া পাঠানকোটের জবাব পাকিস্তানকে দিতেই হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement