ত্রিপুরার প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম নেতা বিমল সিন্হাকে হত্যার জন্য শাসক দল সিপিএম-সহ মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলল কংগ্রেস। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সুদীপ রায়বর্মণ সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘বিমল সিন্হার মৃত্যুর কিনারা করতে সিবিআই তদন্তের দাবি আমরা সেই সময়েও জানিয়েছিলাম। এখনও জানাচ্ছি।’’ ইউসুফ কমিশনের রিপোর্ট দীর্ঘ ১৬ বছর পর হাইকোর্টের নির্দেশে বিধানসভায় পেশ করার পরে নতুন করে তা নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়েছে।
১৯৯৮ সালে বিমলবাবুকে জঙ্গিরা হত্যা করে। তত্কালীন সরকার বিচারপতি ইউসুফের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করে। ২০০০ সালে কমিশনের রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা পড়ে। কিন্তু সরকার তা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে প্রকাশ করেনি। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এক নির্দেশে তা বিধানসভায় পেশ করতে সরকার বাধ্য হয়। আজ বিরোধী কংগ্রেস বিধায়করা রিপোর্টের উপর আলোচনা চাইলে তা স্পিকার খারিজ করে দেন। শুরু হয় হইহট্টগোল। সভা দু’বার মুলতুবি হয়।
কেন সরকার এই রিপোর্ট প্রকাশ করতে বার বার অস্বীকার করেছে? অধিবেশন কক্ষের বাইরে সুদীপবাবু, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিত সিন্হা ও প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা রতনলাল নাথরা বলেন: কমিশনের রিপোর্টে ত্রিপুরার উপজাতি সম্প্রদায়ের দুরবস্থার কথা বিশদে বলা হয়েছে। সমস্যার শিকড়ে গিয়ে তার সমাধানের সুপারিশ করেন বিচারপতি ইউসুফ। উপজাতিদের উন্নয়নে সরকারকে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। সরকার যে সত্যি উপজাতিদের প্রতি উদাসীন তা রিপোর্টের ছত্রে ছত্রে রয়েছে বলে কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, ‘‘এই তথ্য জনসমক্ষে এলে শাসক দল কাঠগড়ায় উঠবে বলেই তা চেপে রাখা হয়েছিল।’’ কংগ্রেসের মতে, জনপ্রিয়তার কারণে শাসক দলের মধ্যেই বিমল সিন্হা ছিলেন মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবিদার। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী। সুদীপবাবুদের ব্যাখ্যা, ‘‘দলের মধ্যে বিমল সিন্হার বিরোধী-গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করেই তাঁকে জঙ্গিডেরায় পাঠায়। উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে হত্যা করানো।’’ জঙ্গিদের সঙ্গে বিমলবাবুর ‘যোগাযোগ’-এর কথা কমিশন ছত্রে ছত্রে উল্লেখ করেছে। এমন কী বিমলবাবুর আপ্ত সহায়ক সুখরঞ্জন সিন্হা ছিলেন সিপিএমেরই কর্মী। ঘটনার দিনে মন্ত্রীকে নদীর পাড়ে ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল এই আপ্ত সহায়ক। কমিশন প্রশ্ন তুলেছে, ‘‘এটা কীসের ইঙ্গিত?’’ সিপিএম রাজ্য নেতৃত্ব কংগ্রেসের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। রাজ্য সম্পাদক বিজন ধর বলেন, ‘‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে জড়িয়ে জনমনে নতুন করে কংগ্রেস বিভ্রান্তি ছড়াতে চাইছে।’’ তাঁর প্রশ্ন, ‘‘কংগ্রেসের যদি এত অভিযোগ থাকে, তা হলে তা প্রমাণ করতে কমিশনের কাছে তথ্য-প্রমাণ জমা দিল না কেন? এত দিন বাদে অভিযোগ তোলা হচ্ছে কেন?’’