রাহুল গান্ধী। —ফাইল চিত্র।
ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রার জাদুকাঠিই অসমের আসন্ন বিধানসভা ভোটে ফের ব্যবহার করতে চাইছে কংগ্রেস।
ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকেই অসমে শুরু হতে চলেছে কংগ্রেসের ‘রথযাত্রা’। নামে ‘রথ’ হলেও, রাহুল গান্ধীর আগের বারের ন্যায় যাত্রার সময়কার মতোই একটি বাসকে এ বারও সাজিয়ে তোলা হবে। সেই রথের আনুষ্ঠানিক নাম এখনও ঠিক হয়নি। তবে এআইসিসি সূত্রে খবর, অসম প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি গৌরব গগৈকে সারথি করে সেই রথে চেপে রাজ্য সফর করবেন রাহুল, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা, মল্লিকার্জুন খড়্গেরা। বেশির ভাগ যাত্রাপথে প্রিয়ঙ্কাই থাকবেন রথে। রথ ছুঁয়ে যাবে অসমের সব জেলা, সব বিধানসভা কেন্দ্র। রথযাত্রার ফাঁকে চলবে পদযাত্রাও। স্থানীয়দের সঙ্গে মত বিনিময় ও বড় জনসভাও করা হবে রথযাত্রার সফরসূচির সঙ্গে তাল মিলিয়ে। কবে কোন নেতা রথে চড়বেন, কোথায় যাবেন— সেই তালিকা তৈরির কাজ চলছে এখন।
লোকসভা ভোটের সময়ে রাহুলের ন্যায় যাত্রার বাসের চাকা যখন উত্তর-পূর্বের মাটিতে গড়ানো শুরু হয়েছিল, অনিশ্চিত যাত্রাপথের দু’পাশে ছিল শুধুই গেরুয়ার রমরমা। কিন্তু বাস যত এগিয়েছে, হতোদ্যম তেরঙ্গা বাহিনীর ফ্যাকাশে শিরায় ততই সঞ্চারিত হয়েছে লাল আভা। সংঘর্ষ-বিধ্বস্ত মণিপুরে, যেখানে পাহাড়-উপত্যকার মধ্যে যোগাযোগই ছিন্ন ছিল, সেখান থেকে যাত্রা শুরু করেই টেক্কা চেলেছিলেন রাহুল। রাহুলের যাত্রাকে নস্যাৎই করে দিয়েছিল বিজেপি। তাদের হাতে তখন মণিপুর, নাগাল্যান্ডের অবিসংবাদী ক্ষমতা, যেখানে কংগ্রেসের অস্তিত্বই নেই। অসমেও গমগম করছে শাসকের প্রতাপ। কিন্তু ভোটের ফল দেখাল ভেল্কি।
মণিপুর, নাগাল্যান্ড, অসমের যে ২৮টি জেলার মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের বাস গিয়েছিল, তার মধ্যে ২০টি জেলায় পদ্মকে বে-রং করে দিয়ে হাত চিহ্নে ভোট পড়ে ঢালাও। তার জেরেই, ইনার-আউটার মণিপুর, নাগাল্যান্ডের একমাত্র আসন, অসমের যোরহাট, নগাঁও, ধুবুড়িতে আশাতীত জয় পায় কংগ্রেস। নাগাল্যান্ডে সর্বদলীয় ও বিরোধীহীন সরকার চলছিল। তার পরেও আসন ধরে রাখাতে পারেনি এনডিএ। অসমের যোরহাটে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে গোটা সরকার উঠে এসেছিল গৌরব গগৈকে পরাস্ত করতে। পারেনি।
এ বার তাই ফিরছে সেই রথ। কংগ্রেসের কৌশলীদের মতে, অসমের ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনে বিজেপির ভোট চুরি ধরা পড়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা নিজেই বাংলাদেশি মূলের মিয়াঁ মুসলিমদের ভোট চুরির কথা ফলাও করে বলছেন। হিমন্তের পরিবার এবং ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ রয়েছে। এই আবহে প্রতিষ্ঠান-বিরোধী হাওয়া রয়েছে রাজ্যে। কৌশলীদের মতে, এ সবই কংগ্রেসের পক্ষে যেতে চলেছে। ইউডিএফের অবস্থা যেহেতু ভাল নয়, তাই রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোট কংগ্রেসের ঘরেই আসারসম্ভাবনা রয়েছে।
অবশ্য কংগ্রেসের নেতৃত্বে গড়া ১৫টি বিরোধী দলের জোটে আসন সমঝোতা নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। গৌরব আগেই বলেছেন, কংগ্রেস নিজে ১২৬টির মধ্যে ১০০ আসনে লড়বে। তাতে নারাজ জোট শরিকদের একাংশ। কিন্তু লোকসভায় বিরোধী ঐক্য যে সুফল দেখিয়েছে, তা মাথায় রেখে, রথযাত্রার আগে জোটের বিরোধও মিটিয়ে নিতে চাইছেন গৌরবরা, যাতে রথযাত্রায় যোগ দিয়ে কংগ্রেসের শরিকরাও আগের মতো ধার ও ভার বাড়াতে পারে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে