Rahul Gandhi-Narendra Modi

নরবণে বিতর্কে মোদীর বিরুদ্ধে নতুন স্লোগান তুললেন রাহুল

কংগ্রেসের দাবি অনুযায়ী, প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ নরবণের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথায় লেখা রয়েছে, ২০২০-র ৩১ অগস্ট রাতে তিনি নর্দান কমান্ডের প্রধান লেফটেনান্ট জেনারেল যোগেশ জোশীর ফোনে জানতে পারেন, চিনের সেনার চারটি ট্যাঙ্ক পদাতিক সেনা-সহ পূর্ব লাদাখের কৈলাস রেঞ্জের দিকে এগোচ্ছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫২
Share:

(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং রাহুল গান্ধী (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

‘যো উচিত সমঝো, ও করো!’যেটা ঠিক মনে হয়, সেটাই করো।

নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাহুল গান্ধী এখন এই একটি বাক্যই বলছেন। কংগ্রেস এ নিয়ে সংসদের ভিতরে-বাইরে স্লোগান তুলছে। সংসদে কংগ্রেসের প্রতিবাদের ব্যানারেও ‘যো উচিত সমঝো,ও করো!’

কংগ্রেসের দাবি অনুযায়ী, প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ নরবণের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথায় লেখা রয়েছে, ২০২০-র ৩১ অগস্ট রাতে তিনি নর্দান কমান্ডের প্রধান লেফটেনান্ট জেনারেল যোগেশ জোশীর ফোনে জানতে পারেন, চিনের সেনার চারটি ট্যাঙ্ক পদাতিক সেনা-সহ পূর্ব লাদাখের কৈলাস রেঞ্জের দিকে এগোচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সরকারের শীর্ষব্যক্তিদের জানান। কী করা হবে, সেই নির্দেশ চান। কিন্তু দু’ঘণ্টা পরেও কোনও উত্তর মেলেনি। বারবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহকে ফোন করেও লাভ হয়নি। শেষে রাজনাথ রাত সাড়ে ১০টায় তাঁকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘যো উচিত সমঝো, ও করো’। নরবণের মতে, পুরো দায় তাঁর কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কংগ্রেস বইয়ের এই অংশ প্রকাশ্যে এনেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ছাড়পত্র না মেলায় এই বইটি প্রকাশিত হয়নি।

মোদীর এই ‘সিদ্ধান্তহীনতা’ তুলে ধরতেই রাহুল গান্ধী-সহ কংগ্রেস এ বার প্রধানমন্ত্রীর ওই ‘যো উচিত সমঝো, ও করো’ উক্তি তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাষ্ট্রপতির বক্তৃতা নিয়ে লোকসভায় বিতর্কে রাহুল এই প্রসঙ্গ তুলতে গেলে বাধা পান। রাহুলকে বলতে না দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার সময়ে কংগ্রেস সাংসদরা হট্টগোলের পরিকল্পনা করেছিলেন। খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী লোকসভামুখোই হননি। রাজ্যসভায় তিনি বৃহস্পতিবার নেহরু-গান্ধী পরিবার-সহ কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন। তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়ায় আজ রাহুল কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘যো উচিত সমঝো, ও করো’। মোদী বলেছিলেন, গান্ধী পরিবার গুজরাতের ভূমিপুত্র মহাত্মা গান্ধীর পদবি চুরি করেছে। আজ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা তা হেসেউড়িয়ে দিয়েছেন।

রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী ৯৭ মিনিটের বক্তৃতায় কোনও প্রশ্নের জবাব দেননি। উনি কবে জেনারেল নরবণের বই, দেশের নিরাপত্তা নিয়ে মুখ খুলবেন?” কংগ্রেস সূত্রের খবর, সোমবার থেকে কংগ্রেস বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় আর হট্টগোল করবে না। কারণ তৃণমূল, এনসিপি (শরদ), এসপি-র মতো বিরোধী দল বাজেট বিতর্কে অংশ নিতে চাইছে। তবে বাজেট নিয়ে আলোচনার সময়েও কংগ্রেস ওই বইয়ের প্রসঙ্গ টেনে আনবে।

কংগ্রেসকে কার্যত সতর্ক করে আজ কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন, ‘‘আমাদের সরকার পরিণত নেতার নেতৃত্বে চলে। বাষট্টির যুদ্ধ নিয়ে হেন্ডারসন ব্রুকস-ভগত কমিশন রিপোর্ট চূড়ান্ত গোপন নথি হিসেবে রয়েছে। সেই রিপোর্টে চিনের সেনার হাতে শোচনীয় হারের জন্য নেহরু সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছিল কমিটি। কিন্তু আমরা সেই নথি প্রকাশ করিনি।’’

বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে বলেন, ‘‘আমি নেহরু-গান্ধী পরিবারের কুকীর্তি নিয়ে লেখা বই, নথির লাইব্রেরি তৈরি করব। সবাইসেখানে বই, নথি দিয়ে সাহায্যকরতে পারেন।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন