—প্রতীকী চিত্র।
দেশ জুড়ে কংগ্রেস কর্মীদের আইনি সাহায্য দিতে ও তরুণ আইনজীবীদের দলীয় কাজের সঙ্গে জুড়তে দেশের প্রতিটি জেলায় আইনি শাখা খোলার পরিকল্পনা নিল কংগ্রেস। পাশাপাশি সাংসদদের দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করতে তরুণ আইনজীবীদের জন্য একটি তিন মাসের ফেলোশিপ চালু করতে চলেছে দল। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ‘ন্যায়, নেতা এবং নাগরিক নামে একটি পডকাস্টও অনুষ্ঠান শুরু করতে চলেছে রাহুল গান্ধীর দল। এটিও মূলত আইনজীবীদের জন্যই বলে জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। মূলত তরুণ আইনজীবীরা যাতে কংগ্রেসে আরও বেশি করে যোগ দেন, সেই লক্ষ্যেই ওই পরিকল্পনা নিয়েছে কংগ্রেসের মানবাধিকার ও তথ্যের অধিকার সংক্রান্ত শাখা।
আজ দিল্লিতে দলের সদর দফতরে সাংবাদিক সম্মেলন করে ওই নতুন উদ্যোগগুলির বিষয়ে জানান কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা তথা মুখপাত্র অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি ও দলের কোষাধ্যক্ষ অজয় মাকেন। আজ দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে যেখানে বিরোধী দলের সরকার রয়েছে, সে সব রাজ্যে অনেক সময়ে রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে শাসক দলের রোষানলে আইনি সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে দলীয় কর্মীদের। এই সবকংগ্রেস কর্মীদের অনেকেরই আদালতে আইনি লড়াই চালানোর আর্থিক সামর্থ্য থাকে না। এমন কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে দেশের প্রতিটি জেলায় পাঁচ জন করে আইনজীবীর একটি দল গঠন করা হবে, যাঁরাদলীয় নেতা-কর্মীদের আইনি সাহায্য দেবেন। মূলত দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে এবং তাঁদের উজ্জীবিত করতেই ওই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দল।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা ঠিক কী, তরুণ আইনজীবীরা যাতে তা ভাল করে বুঝতে পারেন, সে জন্য তিন মাসের একটি ফেলোশিপ চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিষেক। ঠিক হয়েছে, দশ জন তরুণ আইনজীবী সাংসদদের দৈনন্দিন সংসদীয় কাজে সাহায্য করবেন। এ ছাড়া সমসায়িক সামাজিক ও আইনি বিষয় নিয়ে নিজেদের মতামত দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতে ‘ন্যায়, নেতা এবং নাগরিক’নামে পডকাস্ট অনুষ্ঠান শুরু করতে চলেছে কংগ্রেস।
সিঙ্ঘভি জানিয়েছেন, এতে প্রথিতযশা আইনজীবীরা যেমন অংশ নেবেন, তেমনই তরুণ আইনজীবীরাও নিজেদের মতামত রাখার সুযোগ পাবেন। দশটি এপিসোডের ওই পডকাস্টে তাঁর মতামতও থাকবেবলে জানিয়েছেন সিঙ্ঘভি। তিনি বলেছেন, ‘‘বর্তমান সময়ে যখন মতপার্থক্যকে অধিকাংশ সময়েই প্রত্যাখ্যান করা হয়, সেখানে ওই পডকাস্ট অনুষ্ঠান সাংবিধানিক আলাপ-আলোচনাকে নতুন করে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করবে।’’
ইউপিএ সরকারের আমলে তথ্যের অধিকার আইন আনা হলেও কংগ্রেসের অভিযোগ, মোদী সরকার ধারাবাহিক ভাবে ওই আইনকে দুর্বল করতে সক্রিয় রয়েছে। তাই তথ্যের অধিকার আইনের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশ জুড়ে জাতীয় সম্মেলন করার পরিকল্পনা নিয়েছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। যেখানে তরুণ আইনজীবীরা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের বক্তব্য রাখার সুযোগ পাবেন। সিঙ্ঘভি বলেন, ‘‘বর্তমান সময়ে শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা আগের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে। এই আবহে ওই আইনের মূল চেতনা ও শক্তিকে পুনরুদ্ধারের জন্য দেশ জুড়ে আলোচনা শুরুহওয়া অপরিহার্য।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে