Coronavirus

গোষ্ঠী সংক্রমণ? জেলায় আরও পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র

আগামী চার সপ্তাহে প্রতিটি জেলায় অন্তত ৮০০ জনকে অতিরিক্ত পরীক্ষা করে দেখে কেন্দ্রকে রিপোর্ট পাঠাতে হবে রাজ্যকে।  

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২০ ০৪:৩৪
Share:

প্রতীকী ছবি

গোষ্ঠী সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করেছে কি না, তা জানতে দেশের প্রতিটি জেলায় রুটিন পরীক্ষার সঙ্গেই এক প্রস্ত নতুন করে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। মূলত স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং আইসিএমআর রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই নতুন পরীক্ষাগুলি করবে। আগামী চার সপ্তাহে প্রতিটি জেলায় অন্তত ৮০০ জনকে অতিরিক্ত পরীক্ষা করে দেখে কেন্দ্রকে রিপোর্ট পাঠাতে হবে রাজ্যকে।

Advertisement

১৭ মে-র পরে লকডাউন তোলা হবে কি না তা নিয়ে আজ মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু সংক্রমণের প্রশ্নে দেশের পরিস্থিতি গত এক সপ্তাহ ধরেই যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলে মনে করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ৪২১৩ জন ব্যক্তি। মোট সংক্রমিত ৬৭ হাজার ১৫২। মৃত ৯৭ জন। দেশের ২০টি জেলার পরিস্থিতি এতই খারাপ যে, গত সপ্তাহে সেখানে কেন্দ্রীয় দল পাঠাতে হয়। এই আবহে এখন দেশের সব জেলায় নতুন করে পরীক্ষার নির্দেশিকা আসায় জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি গোষ্ঠী সংক্রমণের আভাস পেয়েছে সরকার!

নয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সংক্রমণের প্রশ্নে দেশের প্রতিটি জেলার মধ্যে সুসংহত নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। অতিরিক্ত পদক্ষেপ হিসেবে বাড়তি পরীক্ষাগুলি হবে। প্রতিটি জেলা থেকে নজরদারি ইউনিট হিসেবে ১০টি স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রকে বেছে নেওয়া হবে। যার মধ্যে ৬টি সরকারি ও ৪টি বেসরকারি কেন্দ্র।

Advertisement

আরও পড়ুন: গ্রামে করোনা সংক্রমণ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ মোদীর

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রে প্রতি সপ্তাহে মূলত এমন ৫০ জন রোগীর পরীক্ষা করা হবে যাঁদের জ্বর, সর্দি-কাশির মতো ইনফ্লুয়েঞ্জার উপসর্গ নেই। এ ছাড়া ওই কেন্দ্রগুলিতে ফি সপ্তাহে ৫০ জন করে গর্ভবতী মায়েরও পরীক্ষা করে দেখতে বলা হয়েছে। পরীক্ষার তালিকায় রয়েছেন চিকিৎসাকর্মীরাও। সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা যাঁদের সবচেয়ে বেশি, এমন ১০০ জন চিকিৎসাকর্মীকে প্রতি সপ্তাহে পরীক্ষা করে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যগুলিকে।

জেলাভিত্তিক পরীক্ষায় প্রথাগত লালারস পরীক্ষার পাশাপাশি অ্যান্টিবডি পরীক্ষাও করতে বলা হয়েছে। কোনও জনগোষ্ঠীতে রোগ ছড়িয়ে পড়লে, মূলত তখনই অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হয়। সাধারণত গোষ্ঠী সংক্রমণ হওয়ার পরবর্তী ধাপে জনগোষ্ঠীতে অ্যান্টিবডি পাওয়া যায়। যদিও দেশে গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে বলে আজও স্বীকার করতে চাননি মন্ত্রকের যুগ্মসচিব লব আগরওয়াল। তিনি বলেন, “দেশে কিছু স্থানে অতিমারির ক্লাস্টার পাওয়া গিয়েছে। কিছু স্থানে প্রচুর সংখ্যায় করোনা আক্রান্ত পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু দেশে এখনও গোষ্ঠী সংক্রমণের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।”

মন্ত্রক জানিয়েছে, জেলাগুলি থেকে যে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে তা কেবল নজরদারি জন্যই নেওয়া হচ্ছে। নমুনা প্রদানকারীদের ‘ডেমোগ্রাফিক’ চরিত্র সংগ্রহ করার প্রশ্নেও নির্দেশ রয়েছে ওই নির্দেশিকায়। অভিযোগ উঠেছে, সরকার ধর্মের ভিত্তিতে করোনা রোগীদের চিহ্নিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। লব স্পষ্ট বলেছেন, “এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অসত্য অভিযোগ।”

(অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement