Natural Antiviral in Kitchen

রান্নাঘরেই মজুত আছে শক্তিশালী সব অ্যান্টিভাইরাল! রোগের সঙ্গে মোকাবিলার অস্ত্রগুলি চেনেন তো?

ভাইরাসকে রুখে দিতে সাহায্য করে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ বা খাবারদাবার। তেমনই কিছু প্রাকৃতিক অ্যান্টি ভাইরাল মজুত আছে হাতের কাছেই। কোনওটির ঠিকানা রান্নাঘরের বাজারের ঝুড়ি, কোনওটি হয়তো রয়েছে মশলা রাখার তাকে। শুধু দেখেশুনে চিনে নিলেই হল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৫২
Share:

ছবি : সংগৃহীত।

নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানো নিয়ে চিন্তায় বঙ্গবাসী। চিন্তার মাত্রা একটু বেশিই, কারণ, চিকিৎসকেরা বলছেন, এই রোগের মারণক্ষমতা কোভিডের থেকে কিছুটা বেশি। তবে এটি কোভিডের মতো দ্রুত সংক্রামক নয়। সতর্ক হলে এই ভাইরাসকে ঠেকানো যেতে পারে। তার জন্য যেমন খাওয়াদাওয়া, হাত বারবার ধোয়া ইত্যাদি খেয়াল করে করতে হবে তেমনই শরীরকে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত ও রাখতে হবে।

Advertisement

ভাইরাসকে রুখে দিতে সাহায্য করে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ বা খাবারদাবার। তেমনই কিছু প্রাকৃতিক অ্যান্টি ভাইরাল মজুত আছে হাতের কাছেই। কোনওটির ঠিকানা রান্নাঘরের বাজারের ঝুড়ি। কোনওটি হয়তো রয়েছে মশলা রাখার তাকে। শুধু দেখেশুনে চিনে নিলেই হল।

দিল্লির পুষ্টিবিদ ডিম্পল জাংরা চিনিয়ে দিয়েছেন। এই পুষ্টিবিদ সমস্যার প্রাকৃতিক সমাধানে বিশ্বাসী। মাঝে মধ্যেই সমাজ মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার প্রাকৃতিক সমাধান দিয়ে থাকেন। ডিম্পল কোভিডের সময়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলছেন, “মনে আছে অতিমারির সময় চিকিৎসকেরা বেশি পেঁয়াজ, রসুন, মশলা দিয়ে রান্না করে খেতে বলতেন? তার কারণ, রান্না ঘরে থাকা ওই সমস্ত উপকরণে রয়েছে ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার জোরালো ক্ষমতা। ভাইরাস ঠেকানোর জন্য তাই আগেই অ্যান্টিভাইরাল দোকান থেকে না কিনে এক বার নিজের রান্নাঘরে নজর দিন।

Advertisement

রান্নাঘরের অ্যান্টিভাইরাল কী কী?

হলুদ

হলুদকে বলা হয় ‘প্রাকৃতিক অ্যান্টি-সেপটিক’। এর প্রধান উপাদান কারকিউমিন ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং শরীরে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

কীভাবে খাবেন: রাতে শোবার আগে এক গ্লাস গরম দুধে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে খেতে পারেন।

আদা

আদাতে থাকা জিনজারোল এবং শোগাওল উপাদানগুলো ইনফ্লুয়েঞ্জা ও আরএসভি-এর মতো ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি রোধে সাহায্য করে। এটি গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট কমাতেও কাজে লাগে।

কীভাবে খাবেন: চায়ের সঙ্গে বা গরম জলে আদার রস ও মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।

রসুন

রসুনে রয়েছে অ্যালিসিন নামক একটি যৌগ, যা শক্তিশালী অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টিভাইরাল হিসেবে কাজ করে। এটি সর্দি-কাশির ভাইরাস ঠেকাতে এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করতে সহায়ক।

কীভাবে খাবেন: সকালে খালি পেটে এক কোয়া কাঁচা রসুন চিবিয়ে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

পেঁয়াজ

পেঁয়াজও অত্যন্ত কার্যকরী একটি অ্যান্টিভাইরাল। এতে রয়েছে কোয়েরসেটিন, অরগ্যানো সালফার এবং প্রদাহনাশক গুণাগুণ। এটি কোষের ভেতর ভাইরাসকে প্রবেশ করতে দেয়না। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে সক্রিয় করে। ফলে ইনফ্লুয়েঞ্জা সাধারণ সর্দি-কাশির ভাইরাসের বিরুদ্ধে এটি বিশেষ কার্যকর।

কীভাবে খাবেন: কাঁচা বা রান্না করা দু’ক্ষেত্রেই উপকারী। তবে কাঁচা খেলে পেঁয়াজ কাটার পরে বেশি ক্ষন ফেলে রাখবেন না। তাতে ব্যাক্টেরিয়া জন্মানোর ঝুঁকি বাড়ে।

তুলসী

তুলসী পাতা ভেষজ ওষুধের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে সর্দি কাশির সমস্যায় এটি অত্যন্ত কাজের। তুলসী পাতা শরীরের টি-সেল বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে যা শরীরের ভিতরে ভাইরাসকে আটকানোর এক অদৃশ্য পাঁচিল তৈরি করে ফেলে।

কীভাবে খাবেন: তুলসী পাতা ফুটিয়ে চা বা ক্বাথ তৈরি করে খেলে জ্বর ও কাশির উপশম হয়।

গোলমরিচ

গোলমরিচে থাকা পিপেরিনও ভাইরাসের সঙ্গে লড়তে পারে। শুধু তা-ই নয়, সর্দি-কাশি-জ্বরের মতো সমস্যা প্রতিরোধেও এটি উপকারী।

কীভাবে খাবেন: রান্নায় বা গরম জলে লেবু-আদার রসের সঙ্গে গোলমরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে খান।

লবঙ্গ

লবঙ্গে থাকা ইউজেনল শরীরে প্রবেশ করা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করতে পারে। করে এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তিও বাড়িয়ে দেয়। এটি গলার সংক্রমণ সারাতেও বেশ কার্যকরী।

কীভাবে খাবেন: চায়ে লবঙ্গ ফেলে বা গরম জলে লবঙ্গ ফুটিয়ে খেতে পারেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement