Rahul Gandhi

রাহুলের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিল আদালত

আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, রাহুলের বিরুদ্ধে ওঠা দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগগুলি পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন এবং এর একটি যথাযথ আইনি তদন্ত হওয়া উচিত।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:২৫
Share:

রাহুল গান্ধী। — ফাইল চিত্র।

ইলাহাবাদ হাই কোর্টের লখনউ বেঞ্চ আজ রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থীর একক বেঞ্চ রায়বরেলী জেলার কোতোয়ালি থানায় এই মামলা রুজু করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। আবেদনকারী কর্নাটকের বিজেপি কর্মী এস ভিঘ্নেশ শিশির একটি বিবৃতিতে আদালতের এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে রাহুল বা কংগ্রেসের তরফে রাত পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, রাহুলের বিরুদ্ধে ওঠা দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগগুলি পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন এবং এর একটি যথাযথ আইনি তদন্ত হওয়া উচিত। রাজ্য পুলিশের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও, আদালত জানিয়েছে যে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে উত্তরপ্রদেশ সরকার বা পুলিশ চাইলে তদন্তের ভার কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থাকেও হস্তান্তর করতে পারে।

ভিঘ্নেশের করা এই আবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ব্রিটেনের ‘ব্যাকঅপস লিমিটেড’ নামক সংস্থার বার্ষিক রিটার্নে রাহুল নিজেকে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। এই ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ভারতের লোকসভা সদস্য হিসেবে তাঁর কাজ করার আইনি বৈধতা নষ্ট করে বলে অভিযোগ। রায়বরেলীর সাংসদের বিরুদ্ধে তাই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ফরেনার্স অ্যাক্ট এবং পাসপোর্ট অ্যাক্টের অধীনে তদন্ত ও মামলা দায়েরের আর্জি জানানো হয়েছে।

ভিঘ্নেশ হাই কোর্টে গিয়েছিলেন লখনউয়ের বিশেষ এমপি/এমএলএ আদালতের গত ২৮ জানুয়ারির নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে। এর আগে গত বছর ১৭ ডিসেম্বর হাই কোর্ট মামলাটি রায়বরেলী থেকে লখনউতে স্থানান্তর করেছিল। লখনউয়ের বিশেষ কোর্ট সেই আর্জি খারিজ করে যুক্তিতে বলে, নাগরিকত্ব নির্ধারণের এক্তিয়ার নেই কোর্টের। সেই যুক্তি হাই কোর্টে আজ নাকচ হয়েছে। হাই কোর্ট কেন্দ্রকে এই মামলায় পক্ষ হিসেবে যুক্ত করার অনুমতি দিয়েছিল। মামলার গুরুত্ব ও নথিপত্রের সংবেদনশীলতার বিষয়টি বিচার করে কয়েক দফায় গোপন শুনানি হয়েছিল বিচারপতির কক্ষে।

রাহুলের নাগরিকত্ব নিয়ে আইনি লড়াই দীর্ঘদিনের। ২০১৫ সালের নভেম্বরে বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী প্রথম এই অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেন। পরে ২০১৯ সালের এপ্রিলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাহুলকে ব্যাখ্যা তলব করে নোটিস পাঠিয়েছিল। যদিও তার পরের মাসেই সুপ্রিম কোর্ট রাহুলের ভোটে লড়ায় নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দেয়। আইনি লড়াই অবশ্য থামেনি।

আদালতের এই নির্দেশকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এক ‘ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী রায়’ বলে অভিহিত করে ভিঘ্নেশ এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন