Shimla Houses Crack

একের পর এক বাড়িতে ফাটল! আতঙ্ক শিমলায়, হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় ঘর ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নিল বহু পরিবার

একই এলাকায় এতগুলি বাড়িতে ফাটল ধরার খবর পেয়ে পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। জেলাশাসক পঙ্কজ শর্মার নির্দেশে ফাটল ধরা বাড়িগুলি খালি করানো হয়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:১৩
Share:

বাড়িতে ফাটল ধরেছে। ছবি: সংগৃহীত।

শিমলার একের পর এক বাড়িতে ফাটল দেখা দেওয়ায় আতঙ্ক বাড়ছে। অনেকেই বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন। শুক্রবার রাতে আচমকাই সঞ্জৌলি এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িতে ফাটল দেখা দেওয়ায় আতঙ্ক ছড়ায়। রাতারাতি ১৫টি পরিবারের ৪০ জনকে বাড়ি ছাড়তে হয়।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রের দাবি, চালাউন্তি বাইপাসের কাছে সুড়ঙ্গের কাজ চলছে। ভারী ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে খনন করা হচ্ছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, তার জেরে যে কম্পন সৃষ্টি হয়েছে, সেই কম্পনেই বাড়িগুলিতে ফাটল ধরেছে। তবে নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা শুরু করেছে প্রশাসন। একই এলাকায় এতগুলি বাড়িতে ফাটল ধরার খবর পেয়ে পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। জেলাশাসক পঙ্কজ শর্মার নির্দেশে ফাটল ধরা বাড়িগুলি খালি করানো হয়। ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ইন্দর সিংহ নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, দিনকয়েক আগেই নির্মাণ সংস্থাকে জানানো হয়েছিল সুড়ঙ্গের কাজের জেরে তাঁদের ঘরবাড়ির ক্ষতি হচ্ছে। ফাটল দেখা দিয়েছে কয়েকটি বাড়িতে। তাঁর কথায়, ‘‘এই খবর পেয়ে নির্মাণকারী সংস্থার আধিকারিকেরা এসে দেখে যান। সেই সঙ্গে বলে যান, এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এই ধরনের ফাটল খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই আধিকারিকই আবার আমাদের এসে বাড়ি খালি করার পরামর্শ দিয়েছেন।’’

Advertisement

রাজ্যের পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রী অনিরুদ্ধ সিংহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলেন। তাদের সব রকম সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন। মন্ত্রীর দাবি, গত দেড় বছর ধরে এই বিষয়টি জানিয়ে আসছেন কেন্দ্রীয় পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ী এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে। অধিগৃহীত জমিগুলিতে সম্পত্তির কী কী ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার জন্য বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তবে এই প্রথম নয়, গত বছরে জুনে সঞ্জৌলির কাছেই মাঠু কলোনিতে একটি বহুতল ভেঙে পড়েছিল ধসের কারণে। তদন্তকারী কমিটি তখন জানিয়েছিল, চাল লেনের সড়ক বানানোর জন্য পাহাড় কাটার কারণে এই দুর্ঘটনা।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে উত্তরাখণ্ডের জোশীমঠে প্রায় ৯০০ বাড়িতে ফাটল দেখা দেয়। চওড়া ফাটল দেখা দেয় রাস্তাঘাট, জমি এবং স্থানীয় মন্দিরগুলিতেও। রাতারাতি ঘরছাড়া হয় বহু পরিবার। পাশাপাশি আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল উত্তরাখণ্ডের আরও কয়েকটি পাহাড়ঘেরা শহরে। যার মধ্যে রয়েছে কর্ণপ্রয়াগ, উত্তরকাশী, গুপ্তকাশী, হৃষীকেশ, নৈনিতাল এবং মসুরীর মতো হিমালয়ের কোলে থাকা শহরগুলি। আর এই পরিস্থিতির জন্য শহরগুলির উন্নয়নকেই দায়ী করেছেন স্থানীয়েরা। জোশীমঠের বাসিন্দারা সেই সময়ে দাবি করেন, ৫২০ মেগাওয়াট তপোবন-বিষ্ণুগড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণাধীন টানেলে জলাধার ফেটে যাওয়ার পরে সঙ্কট বেড়েছে জোশীমঠের। যদিও প্রশাসন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। শিমলার সঞ্জৌলির ক্ষেত্রেও সেই উন্নয়নকেই দায়ী করছেন স্থানীয়েরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement