আরজেডি নেতা তথা প্রাক্তন রেলমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব। — ফাইল চিত্র।
আইআরসিটিসি দুর্নীতি মামলায় লালুপ্রসাদ যাদবের বিরুদ্ধে বিচারপর্বে এখনই স্থগিতাদেশ দিল না দিল্লি হাই কোর্ট। এই মামলার তদন্তভার রয়েছে সিবিআইয়ের উপরে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মামলার এই পর্যায়ে তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য না শুনে এমন কোনও পদক্ষেপ করা সঠিক হবে না।
লালু রেলমন্ত্রী থাকাকালীন আইআরসিটিসি-র টেন্ডার বণ্টন ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। নিম্ন আদালতে ইতিমধ্যে ওই মামলায় চার্জগঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তের তালিকায় প্রাক্তন রেলমন্ত্রী ছাড়াও রয়েছেন তাঁর স্ত্রী রাবড়ী দেবী এবং পুত্র তেজস্বী যাদব। এ ছাড়া আরও ১১ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছে। নিম্ন আদালতে বিচারপর্বের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন লালু। সোমবার হাই কোর্টের বিচারপতি স্বর্ণকান্তা শর্মার বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। লালুর আবেদনের প্রেক্ষিতে এখনই কোনও পদক্ষেপ করতে চায়নি আদালত। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে সিবিআইয়ের বক্তব্য জানতে চেয়েছেন বিচারপতি। আগামী ১৪ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
গত বছর বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই আইআরসিটিসি মামলায় চার্জ গঠন করে দিল্লির আদালত। গত বছরের অক্টোবরে চার্জ গঠনের সময়ে নিম্ন আদালত জানিয়েছিল, ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো নানা অভিযোগ উঠে এসেছে বর্ষীয়ান নেতার বিরুদ্ধে। যদিও সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন লালু।
অভিযোগ, ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত রেলমন্ত্রী থাকাকালীন রাঁচী ও পুরীতে আইআরসিটিসি-র দু’টি হেরিটেজ হোটেলের টেন্ডার একটি বেসরকারি সংস্থাকে পাইয়ে দিতে সাহায্য করেছিলেন লালু। পরিবর্তে সেই সংস্থার কাছ থেকে দু’একর জমি নেওয়ার অভিযোগ ওঠে লালুর বিরুদ্ধে। তা ছাড়া, লালুর পরিবারের বিরুদ্ধে গ্রুপ ডি-র চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে বহু চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে ন্যূনতম দামে জমি কিনে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। ২০২২ সালে ওই মামলায় চার্জশিট পেশ করে সিবিআই।