—প্রতীকী চিত্র।
তুষারপাতের আতঙ্কের মধ্যেই বৃহস্পতিবার কেঁপে উঠল সিকিম। সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে ভূমিকম্প হয় সে রাজ্যে। জানা গিয়েছে, কম্পনের উৎসস্থল ছিল গয়ালশিং জেলায় ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৬।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায় এই কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে প্রাথমিক ভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর পাওয়া যায়নি। সিকিমের এই ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গেও। কম্পন অনুভূত হয়েছে গ্যাংটক, দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায়। পাশাপাশি কম্পন টের পেয়েছেন নেপাল ও নিম্ন অসমের বাসিন্দারাও।
সিকিম আবহাওয়া দফতরের আধিকারিক গোপীনাথ রাহা জানান, শিলিগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গের একাংশ ইতিমধ্যেই সিসমিক জ়োন ৬-এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের তীব্রতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। পাহাড়ি অঞ্চলে এই ধরনের ভূমিকম্পের পর আফটারশকের সম্ভাবনা থাকে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞেরা। সেই দিকেই এখন নজর রাখছে প্রশাসন।
দিনকয়েক আগে ভূমিকম্প হয় উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে। কয়েক ঘণ্টার ব্যাবধানে সেখানে ১৩ বার কম্পন অনুভূত হয়। সেই কম্পন অনুভূত হয়েছে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়িতে। এক ঘণ্টার মধ্যে দু’বার কম্পন অনুভূত হয় উত্তরবঙ্গে।
প্রসঙ্গত, গত ৬ ফেব্রুয়ারি সিকিমে ভূমিকম্প হয়। সেই সময় কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৫। কম্পনের উৎসস্থল ছিল পেলিং থেকে ৬ কিলোমিটার পশ্চিমে ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। সেই সময় সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ বার আফটারশক হয়। সেই সব আফটারশকের মাত্রা ছিল ২.২ থেকে ৪।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক দিন ধরেই সিকিমে প্রবল তুষারপাত হচ্ছে। জনজীবন প্রায় থমকে গিয়েছে। বিভিন্ন পর্যটনস্থলগুলিতে আটকে পড়েন কয়েক হাজার পর্যটক। তুষারপাতের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে অনেক জায়গায়। ইতিমধ্যেই প্রায় তিন হাজার পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। রাস্তা পরিষ্কার করে কোথাও কোথাও যান চলাচলকে স্বাভাবিক করা হয়েছে। আতঙ্কের মধ্যে যখন রয়েছেন পর্যটকেরা, সেই সময় এই ভূমিকম্প আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে।