সাবেক ছিটে ভোটাধিকার দিতে উদ্যোগ

ছিটমহল হস্তান্তরের পর এ দেশের নাগরিকদের ভোটাধিকার দিতে তৎপর হল নরেন্দ্র মোদী সরকার। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সংসদের আসন্ন বাজেট অধিবেশনেই দু’টি বিল সংশোধন করা হবে, যাতে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে নতুন করে আসন পুনর্বিন্যাসের কাজ সম্পন্ন করা যায়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:৪৮
Share:

ছিটমহল হস্তান্তরের পর এ দেশের নাগরিকদের ভোটাধিকার দিতে তৎপর হল নরেন্দ্র মোদী সরকার।

Advertisement

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সংসদের আসন্ন বাজেট অধিবেশনেই দু’টি বিল সংশোধন করা হবে, যাতে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে নতুন করে আসন পুনর্বিন্যাসের কাজ সম্পন্ন করা যায়। মোদী সরকার ক’দিন আগেই এই বিষয়ে একটি অধ্যাদেশ আনতে চেয়েছিল। কিন্তু যেহেতু সংসদের এই অধিবেশনের দিন ঘনিয়ে এসেছে, তাই সরাসরি বিল পাশ করেই ভোটের আগে এই কাজটি সারতে চাইছে সরকার। বাজেট পেশের পর ১ মার্চই এই বিলটি পেশ করতে চাইছে কেন্দ্র। যাতে ৪ মার্চের মধ্যে বিলটি পাস হয়ে যায়। আর কমিশনও পর্যাপ্ত সময় পায়। নির্বাচন কমিশন সূত্রের মতে, একবার বিল পাশ হয়ে গেলে এই কাজটি করতে বেশি সময় লাগবে না। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের আগেই ছিটমহল হস্তান্তরের পর এ পারে থেকে যাওয়া মানুষরা ভোটাধিকার পেয়ে যাবেন অনায়াসে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত করার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে এগিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। হস্তান্তরের প্রক্রিয়াতেও সব রকম সহযোগিতা করেছে কেন্দ্র। আজ মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদী যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ধর্ম মেনে এক দিকে যেমন রাজ্যের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চান, তেমনই এর পিছনে বিজেপির রাজনৈতিক লক্ষ্যও রয়েছে।

Advertisement

দলের সূত্রের মতে, ক’দিন আগেই বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতাদের বৈঠকে এই বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। সেখানে রাজ্য নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়, বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীদের অবিলম্বে ভোটাধিকার দেওয়া হোক। ভোটাধিকার যদি একান্ত দেওয়া না যায়, তা হলে অন্তত এমন ব্যবস্থা করা হোক, তারা এ দেশের নাগরিকত্বের যাবতীয় সুবিধা ভোগ করতে পারেন। আর একইসঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদেরও চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। বিজেপির এক নেতার মতে, পশ্চিমবঙ্গে মমতা সংখ্যালঘুদের তোষণ করছেন। ‘মানবিকতা’র দোহাই দিয়ে কংগ্রেস ও বামেরাও একই পথের পথিক। এই অবস্থায় বিজেপি এই রাজনীতির পাল্টা প্রচার করে নিজেদের ভোটব্যাঙ্ককে সংগঠিত করতে চায়।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে শেষ আসন পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে ২০০৮ সালে। সেটি একবার হয়ে গেলে আর পরিবর্তন করা যায় না। তাই আইন সংশোধন করে কোচবিহারের এলাকার নতুন করে পুনর্বিন্যাস করা হবে। ভৌগোলিক অবস্থানও এর ফলে পরিবর্তিত হবে।’’

ছিটমহলের নাগরিক অধিকার রক্ষা সমন্বয় কমিটির মুখপাত্র দীপ্তিমান সেনগুপ্ত কেন্দ্রের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে নির্বাচনী এলাকা পুনর্বিন্যাসে কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা সংবিধানকে মান্যতা দিয়ে। আমরা ওই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি। তবে রাজনৈতিক পদক্ষেপ বাসিন্দারাই ঠিক করবেন। তবে সেটা অবশ্যই নাগরিকত্ব লাভের পর্যায়ক্রম পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার পর।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement