আড়াই ঘণ্টা ভোটগ্রহণের পর পুরো প্রক্রিয়া বাতিল বলে ঘোষণা করলেন কাছাড় কলেজের অধ্যক্ষা লক্ষ্মীতন সিংহ। ৮ নভেম্বর ফের ছাত্র সংসদের ভোট নেওয়া হবে।
কাছাড় কলেজ ছাত্র সংসদের ১৭টি পদের জন্য আজ সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সাড়ে ১১টা নাগাদ ধরা পড়ে, এনএসইউআই-র ক্রীড়া সম্পাদক পদপ্রার্থী স্মিত রায় কলেজের সিলমোহর নিয়ে ঘুরছেন। অন্যান্য প্রার্থীর অভিযোগ— ছাপ্পা ভোটের জন্য স্মিত তা ব্যবহার করছিলেন। অভিযোগ, এ নিয়ে হইচইয়ের মধ্যে বাইরের একদল ছাত্র কলেজে ঢুকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে সেখানে যান অতিরিক্ত জেলাশাসক রণদীপকুমার দাম। এবিভিপি দাবি তোলে, যে-টুকু ভোট হয়েছে, তার ভিত্তিতেই ফলাফল ঘোষণা করা হোক। শেষ পর্যন্ত অবশ্য অধ্যক্ষা নির্বাচন বাতিল বলে ঘোষণা করেন। কলেজের নির্বাচন অফিসার সোমা আচার্য এই পরিস্থিতির জন্য পুলিশকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘‘আগেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা উপযুক্ত গুরুত্ব দেয়নি।’’ তাঁর অভিযোগ, যে দু-চারজন পুলিশ গেটে মোতায়েন করা হয়েছিল, তাঁদের সামনেই বাইরের যুবকরা হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ে।
এআইডিএসও-র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, কলেজ কর্তৃপক্ষের অদূরদর্শিতার জন্যই ভোট বাতিল হয়েছে। এখন তাঁদের দাবি, ভোট হোক ডিসেম্বরে। নভেম্বরে পরীক্ষা রয়েছে বলে জানান তাঁরা।
এবিভিপি-র উত্তর-পূর্ব সম্পাদক মনোজকুমার দাস বলেন, ‘‘চক্রান্ত করে এনএসইউআই ভোট বাতিল করিয়েছে। এবিভিপি-র নিশ্চিত জয় দেখেই তাঁরা অশুভ উপায় গ্রহণ করে।’’ কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, স্মিত রায়ের কাছ থেকে কলেজের একটি সিলমোহর বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেটি কী করে তাঁর হাতে গেল, তা তদন্ত করা হবে। স্মিথ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর প্রার্থিত্ব বাতিল হবে। কলেজের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত দাবি করা হয়েছে।