কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ। ফাইল চিত্র।
গ্রামীণ ভারতের কর্মসংস্থান বাড়াতে ১ জুলাই থেকে ‘ভিবি জি রাম জি’ প্রকল্প চালু করতে চলেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। কিন্তু একাধিক বিজেপি-শাসিত রাজ্য নতুন ওই প্রকল্পের বিরোধিতা করেছে বলে আজ দাবি করলেন কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ। তাঁর বক্তব্য, নতুন আইন কার্যকর হলে এক দিকে যেমন কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, তেমনই রাজ্যের ঘাড়ে বাড়তি অর্থের দায় চাপবে। তাই আপত্তি তুলতেশুরু করেছে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোও।
প্রথম ইউপিএ সরকারের আমলের ‘মনরেগা’ বা একশো দিনের কাজের প্রকল্পের নাম ও একাধিক বিষয় বদলে গত ডিসেম্বরে ‘বিকশিত ভারত জি রাম জি’ আইন আনে কেন্দ্র। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুনপ্রকল্প কার্যকর হতে যাচ্ছে। নতুন আইনে এই প্রকল্পে কাজের নিশ্চয়তা একশো দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। সরকারের দাবি, অতীতে একশো দিনের প্রকল্প ঘিরে বিভিন্ন আর্থিক দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠত, তা রোখা সম্ভব হবে নতুন প্রকল্পে। কিন্তু প্রকল্প শুরু হওয়ার ঠিক আগে বেশ কিছু বিজেপি-শাসিত রাজ্য ওই প্রকল্পের বিরোধিতা করা শুরু করেছে বলেদাবি রমেশের।
পুরনো আইনে মজুরির অর্থ গোটাটাই কেন্দ্র বহন করত। জয়রামের দাবি, নতুন আইনে মোট খরচের ৪০ শতাংশ অর্থ রাজ্যকে বহন করতে হবে। ফলে নিজেদের রাজকোষের খরচ বাঁচাতে রাজ্যগুলি কাজের বরাত দেওয়া কম করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা রমেশের। তাঁর দাবি, রাজকোষের উপর বাড়তি চাপের আশঙ্কাতেই মধ্যপ্রদেশ, বিহার, উত্তরাখণ্ডের মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্য নতুন আইনের বিরোধিতা করেছে।
অন্য আরও চারটি রাজ্য একই কারণে নতুন আইনের বিরোধিতা করেছে। রমেশের কটাক্ষ, খোদ কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানের নিজের রাজ্য মধ্যপ্রদেশই বিরোধিতা করেছে!
বিরোধীদের অভিযোগ, পুরনো আইনে প্রত্যেক ব্যক্তির একশো দিন কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা ছিল। যা নতুন আইনে নেই। আগের আইনে প্রতিটি গ্রামের বাসিন্দারা কাজ পাবেন, সেই নিশ্চয়তা ছিল। কিন্তু নতুন আইনে কেবল মোদী সরকার যে সব গ্রামকে বেছে নেবে, সে সব গ্রামের লোকেরাই কাজ পাবেন বলে অভিযোগ রমেশের। বিরোধীদের অভিযোগ, এর ফলে কোনও গ্রাম যদি রাজনৈতিক ভাবে বিজেপি বিরোধী হয় বা সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হয়, সে সব গ্রামের আগামী দিনে কাজ পাওয়া কঠিন হবে। বিরোধীদের মতে, অতীতে কোনও ব্যক্তি সারা বছর কাজ চাইতে পারতেন। কিন্তু নতুন আইনে ফসল কাটার মরসুমে কাজ পাওয়া যাবে না। ফলে গরিব মজুর-কৃষকদের বড় অংশকে বছরের বেশ কয়েক মাস কাজ ছাড়াই থাকতে হবে।
মনরেগা আইনে ন্যূনতম মজুরির প্রশ্নে আইনি ভরসা থাকলেও নতুন আইনে তা নির্ভর করবে নরেন্দ্র মোদী সরকারের মর্জির উপরে। যদিও সরকারের দাবি, সব দিক খতিয়ে দেখে ওই বিল আনা হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। ওই আইন কার্যকর হলে গ্রামের লোকের হাতে বাড়তি অর্থ আসবে, চাঙ্গা হবেগ্রামীণ অর্থনীতি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে