মার্কিন হামলায় হত ভারতীয় নাবিক সুরেশ পাত্তানানা। ছবি: সংগৃহীত।
প্রতি দিন স্বামীর পাঠানো ‘গুড মর্নিং’ মেসেজে ঘুম ভাঙত। কিন্তু ১০ জুন সেই মেসেজ আর আসেনি। এক অজানা আশঙ্কায় বুক তখনই কেঁপে উঠেছিল সুরেশ পাত্তানানার স্ত্রী ভার্গবীর। দু’দিন আগেই ভার্গবীকে ফোন করে সুরেশ জানিয়েছিলেন যে, কতটা ঝুঁকি নিয়ে ওমান উপসাগর দিয়ে তাঁদের জাহাজ যাচ্ছে। মাথার উপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে যাচ্ছে। কখনও যুদ্ধবিমান। তা থেকেও হামলা চালানো হচ্ছে। এমনই নানা ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন স্ত্রীকে।
তার ঠিক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশে সুরেশের বাড়িতে খবর আসে জাহাজে হামলা হয়েছে। ১১ জুন ভাগর্বী জানতে পারেন যে জাহাজে তাঁর স্বামী কর্মরত, হামলা হয়েছে সেই জাহাজেই। তখনও জানতে পারেননি পরিস্থিতি কী। স্পষ্ট কোনও বার্তাও পাচ্ছিল না পাত্তানানা পরিবার। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভার্গবীরা জানতে পারেন, হামলার পর থেকে তিন নাবিক নিখোঁজ। সেই খবর শুনে মাথার উপর যেন আকাশ ভেঙে পড়েছিল পাত্তানানা পরিবারের। আশঙ্কা বদলে গেল বাস্তবে। পরে তারা জানতে পারে, যে তিন জন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সুরেশও। ওমান প্রশাসন এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে নিশ্চিত করা হয় দুই ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। তবে চিফ ইঞ্জিনিয়ার নিখোঁজ। কিন্তু পরে তাঁরও দেহ উদ্ধার হয়।
সুরেশের স্ত্রী ছাড়াও দুই সন্তান রয়েছে। তাদের এক জনের বয়স ১৩, অন্য জনের ১০। এনডিটিভি-কে ভার্গবী জানিয়েছেন, সুরেশ তাঁকে জানিয়েছিলেন যে, চিন থেকে তাঁরা ওমান-দুবাইয়ের পথে। তাঁর কথায়, ‘‘তখনই আমার উদ্বেগের কথা ওকে জানিয়েছিলাম। কারণ আমি জানি যে, পশ্চিম এশিয়ায় এখন কী পরিস্থিতি। সেই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে কতটা ঝুঁকি নিয়ে ওদের যেতে হবে।’’ ভার্গবী জানিয়েছেন, ১০-১২ বছর ধরে মার্চেন্ট নেভিতে চিফ ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কর্মরত ছিলেন সুরেশ। প্রসঙ্গত, ওমান উপসাগর এবং হরমুজ়ের কাছে গত তিন দিনে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার মুখে পড়ে। তার মধ্যে দু’টি জাহাজে ছিলেন কয়েক জন ভারতীয়। এমটি সেটেবেলো জাহাজে ছিলেন সুরেশ। সেটিও হামলার মুখে পড়ে। জাহাজটিতে মোট ২৪ জন নাবিক ছিলেন।