Donald Trump on US Iran Conflict

ইরান আক্রমণ থেকে হঠাৎ কেন সরলেন ট্রাম্প? পাকিস্তান-সহ তিনটি দেশের তৎপরতাতেই আপাতত শান্তিকল্যাণ: রিপোর্ট

বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, রাতেই জোরদার হামলা হবে ইরানে। ভেনেজ়ুয়েলার মতো ইরানের তেলের ভান্ডারও আমেরিকা দখল করে নেবে বলে দাবি করেছিলেন তিনি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ১৪:১০
Share:

ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ইরানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় (ভারতীয় সময়) সমাজমাধ্যমে ঘোষণা করেছিলেন, রাতেই জোরদার হামলা হবে ইরানে। এমনকি, ভেনেজ়ুয়েলার মতো ইরানের তেলের ভান্ডারও আমেরিকা দখল করে নেবে বলে দাবি করেছিলেন তিনি। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই মত বদলেছেন। জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে বোঝাপড়া চূড়ান্ত হয়েছে। তাই আপাতত আর হামলা হচ্ছে না। কেন আচমকা এই মতবদল? মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিকিটো সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই রাতারাতি মতবদলের নেপথ্যে রয়েছে তিনটি ফোন।

Advertisement

ট্রাম্পের ঘোষণার পরেই হুলস্থুল পড়ে গিয়েছিল পশ্চিম এশিয়ায়। এমনকি, দক্ষিণ এশিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলির কপালেও চিন্তার ভাঁজ পড়ে গিয়েছিল। কারণ, আমেরিকা জোরদার হামলা চালালেই ইরান তার পাল্টা জবাব দেবে। সে ক্ষেত্রে পশ্চিম এশিয়ায় ফের শুরু হয়ে যেত পুরোদমে যুদ্ধ, যা কোনও পক্ষেরই কাম্য নয়। রিপোর্টে দাবি, পাকিস্তান থেকে ফোন গিয়েছিল ট্রাম্পের কাছে। ফোন করেছিলেন সে দেশের সেনাপ্রধান তথা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। এ ছাড়া কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট মহম্মদ বিন জ়ায়েদ আল নাহয়ান ট্রাম্পকে সরাসরি ফোন করেছিলেন। দু’জন মার্কিন প্রশাসনিক আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলে এবং এক কূটনীতিকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে পলিটিকো।

মার্কিন আধিকারিকদের মতে, এই তিন নেতার উপরেই ভরসা রেখেছেন ট্রাম্প। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের বিষয়ে এঁদের কথায় ভরসা করা যায়। এমনকি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের উপরেও এই নেতাদের প্রভাব রয়েছে। তাই তাঁদের কথা শুনে এবং তাঁদের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়ে বৃহস্পতিবার তিনি হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের শেষেই ইরানের সঙ্গে সমঝোতা ঘোষিত হতে পারে।

Advertisement

যদিও সমঝোতা চূড়ান্ত, মানতে চায়নি তেহরান। তারা জানিয়ে দিয়েছে, এখনও কোনও বিষয়ে চূড়়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমায়েলি বাঘেই জানিয়েছেন, তাদের কিছু লাল রেখা রয়েছে। সে বিষয়ে কোনও ভাবেই তাঁরা নিজেদের দাবি থেকে সরবেন না।

ইজ়রায়েলি সূত্র উল্লেখ করে রিপোর্টে দাবি, আপাতত শুধু হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়া এবং মার্কিন অবরোধ তোলার বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। পরমাণু চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে আরও অনেক সময় লাগবে। উভয় পক্ষই সে বিষয়ে একমত। তা ছাড়া, মোজ়তবার অবস্থান নিয়েও জল্পনা রয়েছে। তাঁকে এখনও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। মার্কিন রিপোর্ট দাবি করছে, আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ আঘাতে তিনি এতটাই গুরুতর ভাবে জখম হয়েছেন যে, মাটির নীচের কোনও এক বাঙ্কারে রয়েছেন। প্রযুক্তির ছোঁয়া সেখানে নেই। তাঁর স্বাক্ষর ছাড়া ইরানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

আমেরিকা এবং ইরানের সংঘাত থামাতে প্রথম থেকেই মধ্যস্থতাকারী হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। একাধিক বার সে দেশের শীর্ষনেতারা ইরান গিয়েছেন। যোগাযোগ করেছেন আমেরিকার সঙ্গে। এমনকি, পাকিস্তানে দুই দেশের নেতাদের মুখোমুখি বসিয়ে আলোচনার আয়োজনও করা হয়েছিল। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়। পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট এখনও কাটেনি। হরমুজ়ে একের পর এক পণ্যবাহী জাহাজের উপর হামলা চলছে। অবিলম্বে সেখানে শান্তিস্থাপন এবং কূটনৈতিক পদ্ধতিতে সংঘাত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে ভারতও।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement