Ahmedabad Plane Crash Investigation

বছর পার, এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দুর্ঘটনার চূড়ান্ত রিপোর্ট এল না! ইঞ্জিন কি আমেরিকায়, এখনও শেষ হয়নি খতিয়ে দেখার কাজ?

২০২৫ সালের ১২ জুন অহমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে লন্ডন গ্যাটউইকের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পরমুহূর্তে ভেঙে পড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ বিমান। মৃত্যু হয়েছিল ২৬০ জনের। শুক্রবার সেই ঘটনার এক বছর সম্পূর্ণ হল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ০৮:৫৯
Share:

অহমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে ওড়ার পর সামনের ভবনে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পার। এখনও তদন্তের চূড়ান্ত কোনও রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি। এই ঘটনার তদন্ত করছে এয়ারক্র্যাফ্‌ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)। তাদের সঙ্গে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ, ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক এবং আমেরিকার জাতীয় পরিবহণ নিরাপত্তা বোর্ডও যুক্ত। সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনার চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট আসতে বিলম্ব হবে। নিয়ম মেনে এক বছরের মাথায় তা প্রকাশ করতে পারবেন না তদন্তকারীরা। কারণ, তাঁদের নজর রয়েছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত সেই বিমানের ইঞ্জিনে। এখনও তার বিশ্লেষণ সম্পূর্ণ হয়নি।

Advertisement

অহমদাবাদের দুর্ঘটনাস্থল এখন। ছবি: রয়টার্স।

আন্তর্জাতিক নিয়ম বলছে, যে কোনও বড় বিমান দুর্ঘটনার এক বছরের মাথায় তার তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করতে হয়। কোনও কারণে তদন্ত সম্পন্ন না হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে দিতে হয় অন্তর্বর্তী রিপোর্ট। তাতে বিলম্বের কারণও ব্যাখ্যা করতে হয়। তদন্ত সম্পূর্ণ না হলে প্রতি বছরই এমন একটি করে রিপোর্ট দিয়ে যাওয়ার কথা সংস্থার। রয়টার্সের দাবি, গত এপ্রিলে এয়ার ইন্ডিয়ার ওই বিমানটির ইঞ্জিন পরীক্ষা করা হয়েছিল। তার পর গত মাসে তদন্তকারীরা এই ইঞ্জিন বিশ্লেষণের সূত্রেই ফ্রান্সে গিয়েছিলেন। তবে এই তথ্যগুলি আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ্যে আনা হয়নি। সূত্রের খবর, চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করতে সময় লাগবে বলেই তদন্তকারীরা অন্তর্বর্তী রিপোর্ট প্রস্তুত করেছেন।

সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়ার দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তদন্ত নিয়ে ব্লুমবার্গ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে দাবি করা হয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটির ইঞ্জিন আমেরিকায় রয়েছে। তদন্তকারীরা সেটি পরীক্ষার জন্য আমেরিকায় পাঠিয়েছেন। পরীক্ষানিরীক্ষা সম্পন্ন হলে তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হতে পারে। তবে তাতে আরও তিন মাস লাগতে পারে বলে দাবি করেছে ব্লুমবার্গ।

Advertisement

অহমদাবাদের দুর্ঘটনাস্থলে এখনও এক বছরের আগের স্মৃতি টাটকা। ছবি: রয়টার্স।

২০২৫ সালের ১২ জুন অহমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে লন্ডন গ্যাটউইকের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় ভেঙে পড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ বিমান। রানওয়ে ছাড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিমানটি উল্টো দিকের বিল্ডিংয়ে ধাক্কা খায়। যাত্রী, বিমানকর্মী-সহ মৃত্যু হয়েছিল মোট ২৬০ জনের। গত বছরেই ঘটনার একটি অন্তর্বর্তী তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছিলেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা। ককপিটে শেষ মুহূর্তে পাইলটদের মধ্যে কী কথাবার্তা হয়েছিল, তা প্রকাশ করা হয় ওই রিপোর্টে। বলা হয়, বিমানের ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ আচমকা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। জ্বালানির সেই সুইচগুলি ‘রান’ থেকে ‘কাট অফ’-এ চলে গিয়েছিল। তার ফলে দু’টি ইঞ্জিনের কোনওটিতেই পর্যাপ্ত জ্বালানি পৌঁছোয়নি। ফলে বিমান উড়তে পারেনি।

অহমদাবাদের দুর্ঘটনাস্থলে ধ্বংসাবশেষ। ছবি: রয়টার্স।

ককপিটের কথোপকথনের রেকর্ডিংয়ে ক্যাপটেন সুমিত সবরওয়াল এবং ফার্স্ট অফিসার ক্লাইভ কুন্দরের গলা শোনা গিয়েছিল। অন্তর্বর্তী রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমান রানওয়ে ছাড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তাঁরা একে অপরের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এক জন আর এক জনকে ভয়ার্ত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘‘কেন জ্বালানির সুইচ বন্ধ করে দিলে?’’ অন্য জন উত্তরে বলেছিলেন, ‘‘আমি কিছু বন্ধ করিনি।’’ কোনটি কার কণ্ঠ, রিপোর্টে তা স্পষ্ট করা হয়নি। তবে ককপিটে সাধারণ ভাবে পাইলটদের অবস্থান বিবেচনা করে অনেকেই দাবি করেন, সুইচ বন্ধের কথা বলা হয়েছিল ক্যাপটেন সুমিতকেই। তদন্তকারী সংস্থা এএআইবি দাবি করেছিল, এই কণ্ঠস্বরের নমুনা থেকে তৎক্ষণাৎ কোনও সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। ক্যাপটেন সুমিতের বাবা এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থও হয়েছিলেন। নিরপেক্ষ, স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ ছিল, অকারণে তাঁর মৃত পুত্রের ভাবমূর্তি কলুষিত করা হচ্ছে।

অহমদাবাদের দুর্ঘটনার পর নিহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল এয়ার ইন্ডিয়া। গত অক্টোবর থেকে তা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনেকেই সেই ক্ষতিপূরণের অর্থ গ্রহণ করতে চাইছেন না। তাঁরা তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট দেখে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন। বিমান সংস্থার গাফিলতি ছিল কি না, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করবেন কি না, তা ভেবেই অনেকে এখনও ক্ষতিপূরণ নেননি। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এ বিষয়ে কাউকে কোনও চাপ দেওয়া হচ্ছে না। কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমাও নেই। যে কোনও সময় ক্ষতিপূরণের অর্থ নেওয়া যাবে। এয়ার ইন্ডিয়ার দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটিতে ছিলেন গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি। তাঁর কন্যাকে সম্প্রতি ক্ষতিপূরণে বাঁধাধরা সময়সীমা নেই জানিয়ে বিমান সংস্থা লিখিত ভাবে জানিয়েছে বলে খবর।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement