Bengaluru Murder Case

টানা সাত দিন ধরে দেখেছিলেন স্থানীয় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ! নিজেই পুত্রের ঘাতককে খুঁজে বার করেছিলেন বাবা

স্কুল বাস থেকে যেখানে নামত কিরণ, সেই এলাকার সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করেন রবি। তিনি জানান, প্রায় ছ’-সাত দিন ধরে টানা ৫০ থেকে ৭৫টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০২৫ ০৮:৩২
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

অনেক কাজের মাঝে পুলিশ ‘সূত্র’ খুঁজে বার করতে পারেনি। ছেলের খুনের অপরাধীদের খুঁজতে তাই নিজেই মাঠে নেমে পড়েছিলেন বাবা। ‘ডিটেক্টিভ’-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তার পরে খুঁজে বার করেছিলেন ১৪ বছরের ছেলের খুনিকে। শেষ পর্যন্ত তাঁর জোগাড় করে দেওয়া তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ১৪ বছরের কিশোরের খুনে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন ২২ বছরের যুবক। সাজা দিয়েছিল বেঙ্গালুরুর আদালত।

Advertisement

২০১৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি স্কুলে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি কিরণ যাদব। তখন তার বয়স ছিল ১৪ বছর। বেঙ্গালুরুর মাল্লাথাহাল্লির একটি স্কুলে পড়ত সে। স্কুল বাস একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নামিয়ে দিত। সেখান থেকে হেঁটে বাড়িতে ফিরত কিরণ। সে দিন সন্ধ্যা হয়ে গেলেও বাড়ি ছেলে বাড়ি ফেরেনি দেখে খুঁজতে বেরিয়ে পড়েন বাবা বিএম রবি কুমার যাদব। তিনি ছেলের স্কুলে গিয়ে বাসচালকের থেকে জানতে পারেন, রোজ যেখানে নামে, সেখানেই নেমেছিল কিরণ। এর পরেই চন্দ্রা লেআউট থানায় পুত্রের নিখোঁজ হওয়ার ডায়েরি করেন রবি। ১০ ফেব্রুয়ারি বেঙ্গালুরু বিশ্ববিদ্যালয়ের জঙ্গল এলাকা থেকে উদ্ধার হয় কিশোরের দেহ। তার পরনে ছিল স্কুলের পোশাক।

রবি গিয়ে পুত্রের দেহ শনাক্ত করেন। তদন্তে নামে পুলিশ। যদিও সন্দেহভাজন হিসাবে কারও নাম উঠে আসেনি তাদের তদন্তে। রবি জানান, পুলিশ অন্য তদন্তে ব্যস্ত বুঝে তিনি নিজেই নেমে পড়েন অনুসন্ধানে। তাঁর কথায়, ‘‘আমার ছেলে খুন হয়েছে। দেরি করলে দোষীরা পার পেয়ে যাবেন। তাই দ্রুত অনুসন্ধান শুরু করি।’’ স্কুল বাস থেকে যেখানে নামত কিরণ, সেই এলাকার সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। রবি জানান, প্রায় ছ’-সাত দিন ধরে টানা ৫০ থেকে ৭৫টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখেন তিনি।

Advertisement

সেই ফুটেজেই রবি দেখতে পান, বাস থেকে নেমে এক যুবকের বাইকে চেপেছিল কিরণ। সেই যুবক তাঁদেরই প্রতিবেশী। তাঁকে ‘দাদা’ ডাকত কিরণ। নিজের সন্দেহের কথা পুলিশকে জানান রবি। এর পরেই মঞ্জুনাথ নামে ওই যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই সময় মঞ্জুনাথের বয়স ছিল ২২ বছর। মঞ্জুনাথের বাবা পাল্টা রবি এবং তাঁর স্ত্রীর দিকে আঙুল তুলেছিলেন। দাবি করেছিলেন, তাঁদের চিটফান্ডের ব্যবসা রয়েছে। সেই নিয়ে বলেছিলেন বলেই মঞ্জুনাথকে ফাঁসানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে মঞ্জুনাথকে যাবজ্জীবন দেয় নিম্ন আদালত।

পুলিশ চার্জশিটে জানায়, মঞ্জুনাথের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন অশ্বিনী নামে এক বধূ। তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল মঞ্জুনাথের। সে কথা তাঁর মাকে বলে দিয়েছিলেন মৃত কিশোরের মা প্রমীলা। প্রতিশোধ নিতেই কিরণকে খুন করেন মঞ্জুনাথ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement