এস জয়শঙ্কর। —ফাইল চিত্র।
ভারতের পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার বা জাহাজকে হরমুজ় প্রণালী ধরে যেতে দেওয়ার বিনিময়ে কিছুই চায়নি ইরান! ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফিনানশিয়াল টাইম্স’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানালেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “এটা দেনা-পাওনার বিষয় নয়। আমাদের একে অপরের সঙ্গে বোঝাপড়া করার ইতিহাস রয়েছে। তার ভিত্তিতেই আমি (ইরানের সঙ্গে) কথা বলেছি।”
হরমুজ়-জট কাটাতে কূটনীতির উপরেই জোর দিয়েছেন জয়শঙ্কর। সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি এবং তেহরানের মধ্যে বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই শনিবার ভারতের পতাকাবহন করা গ্যাসবাহী দু’টি ট্যাঙ্কার নির্বিঘ্নে হরমুজ় পেরোয়। এই প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, “আমি ওদের (ইরান) সঙ্গে কথা বলছি এবং এই কথাবার্তার ফলে কিছু ফল পাওয়া যাচ্ছে।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “এই প্রক্রিয়া (ইরানের সঙ্গে কথাবার্তা) চলছে। যদি এটা ফলদায়ক হয়, তা হলে স্বাভাবিক ভাবেই আমি এটা চালিয়ে যাব।”
প্রসঙ্গত, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পারস্য এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী হরমুজ় প্রণালী ‘অবরোধ’ করেছে ইরান। পণ্যবাহী জাহাজ, ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে তারা। বিশ্বে রফতানিযোগ্য এক-পঞ্চমাংশ তেল হরমুজ় প্রণালী হয়েই বিভিন্ন দেশে যায়। ফলে এই প্রণালীতে অবরোধের জেরে বিশ্বে জ্বালানি বাজারে ডামাডোল শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ়ের অবরোধ তুলতে সামরিক অভিযানের কথা ভাবছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই চিন, ফ্রান্স এবং ব্রিটেনকে হরমুজ় প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তার পরেও অবশ্য ফ্রান্স, ইটালির মতো ইউরোপের দেশগুলি হরমুজ় নিয়ে ইরানের সঙ্গে বোঝাপড়া করার ইঙ্গিত দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রবিবার একটি সাক্ষাৎকারে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, নিরাপদে হরমুজ় পেরোনোর জন্য কোনও দেশ তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলে দরজা খোলা রয়েছে। হরমুজ় নিয়ে ইউরোপের দেশগুলি দৌত্য শুরু করার পর জয়শঙ্করকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি জানান, দেশগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক আলাদা আলাদা ধরনের হয়ে থাকে। তিনি বুঝিয়ে দেন যে, ভারত-ইরানের যে সম্পর্কের রসায়ন, তা অন্য দেশগুলির ক্ষেত্রে না-ও থাকতে পারে। ঘটনাচক্রে, সোমবারই বেলজিয়াম ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দেবেন জয়শঙ্কর। সেই বৈঠকেও হরমুজ় প্রসঙ্গ উঠতে পারে।