(বাঁদিকে) গৌরী লঙ্কেশ এবং শ্রীকান্ত পানগড়কর (ডানদিকে)। —ফাইল চিত্র।
সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত হিন্দুত্ববাদী নেতা শ্রীকান্ত পানগড়কর মহারাষ্ট্রের পুরভোটে নির্দল প্রার্থী হিসাবে লড়ে জয় পেলেন। ফলপ্রকাশের পরই তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে উল্লাসে মাততে দেখা গেল তাঁকে। জালানা পুরসভার ভোটে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে নির্দল প্রার্থী হিসাবে লড়েন তিনি।
মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার দলের সদস্য ছিলেন পানগড়কর। কিন্তু টিকিট না পেয়ে দল ছাড়েন তিনি। নির্দল হিসাবে লড়ার সিদ্ধান্ত নেন। জালানা পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে শিন্দের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা কোনও প্রার্থী দেয়নি। তবে বিজেপি-সহ অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এই ওয়ার্ডে বহুমুখী লড়াই ছিল পানগড়করের। শেষ পর্যন্ত সব প্রার্থীকে পিছনে ফেলে ওই ওয়ার্ডে ২৬২১ ভোটে জয়লাভ করেন তিনি।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত অবিভক্ত শিবসেনার সদস্য হিসাবে পানগড়কর জালনা পুরসভার কাউন্সিলর ছিলেন। ২০১১ সালে শিবসেনার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় তাঁর। ওই বছরেই তিনি যোগ দেন ‘হিন্দু জনজাগৃতি সমিতি’তে। সাংবাদিক, সমাজকর্মী গৌরী লঙ্কেশ হত্যাকাণ্ডে ২০১৮ সালের অগস্ট মাসে গ্রেফতার হয়েছিলেন পানগড়কর। ছ’বছর জেলে থাকার পরে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে কর্নাটক হাই কোর্ট তাঁকে জামিন দেয়। যদিও ওই খুনের মামলার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। ২০২৪ সালের অক্টোবরে শিন্দেসেনায় যোগ দিয়ে রাজনীতিতে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেন পানগড়কর। তবে পুরভোটে টিকিট না-পেয়ে শিন্দেসেনার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুতে তাঁর বাড়ির সামনেই গুলি করে খুন করা হয় গৌরীকে। কর্নাটক পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) ১৭ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। গৌরী হত্যাকাণ্ডে পানগড়করের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনিই আততায়ীদের আগ্নেয়াস্ত্র জোগাড় করে দিয়েছিলেন। পুরসভা ভোটে জিতে গৌরী হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ শোনা গেল পানগড়করের কণ্ঠে। তাঁর দাবি, এখনও এই মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। আইনি প্রক্রিয়া চলছে। শুধু গৌরী হত্যাকাণ্ড নয়, অস্ত্র ছিনতাইয়ের একটি মামলাতেও অভিযুক্ত পানগড়কর। মহারাষ্ট্র পুলিশের সন্ত্রাসদমন শাখার (এটিএস) দায়ের করা সেই মামলাটিও বর্তমানে বিচারাধীন।