গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বুথফেরত সমীক্ষায় এগিয়ে রাখা হয়েছিল। শুক্রবার সকাল ১০টায় গণনাপর্ব শুরুর পরে ‘প্রাথমিক প্রবণতা’ বলছে, দেশের বৃহত্তম (জনসংখ্যার নিরিখে) এবং ধনীতম পুরসভা বৃহন্মুম্বই দখলের ক্ষেত্রে উদ্ধব ঠাকরে-রাজ ঠাকরের জুটির তুলনায় এগিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ‘মহাজুটি’। পুণে এবং নাগপুরেও এগিয়ে বিজেপি জোট। অন্য দিকে, গণনার প্রবণতা বলছে কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে কোলাপুরে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের শিবসেনা এগিয়ে ঠাণে পুরসভায়।
মুম্বইয়ে ২৯ আসনে বিজেপি জোট এবং ১৫টিকে উদ্ধবের জোট এগিয়ে রয়েছে। মুম্বই-সহ মহারাষ্ট্রের ২৯টি পুরসভা ভোটের গণনার ফল বিকেলের মধ্যেই প্রকাশিত হবে বলে মহারাষ্ট্র রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর। বৃহন্মুম্বই পুরসভার সঙ্গেই বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ হয়েছে নাগপুর, পুণে, ঠাণে, কল্যাণ-ডোম্বিবলী-সহ ২৯টি পুরসভার। শাসক ‘মহাজুটি’ কিংবা বিরোধী জোট ‘মহাবিকাশ আঘাড়ীর’ শরিক দলগুলির মধ্যে সর্বাত্মক কোনও সমঝোতা হয়নি মুম্বই-সহ কোনও পুরসভাতেই। দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে বিজেপি ও উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার জোটের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী উদ্ধবের শিবসেনা (ইউবিটি), রাজ ঠাকরের মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার (এমএনএস) এবং শরদ পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি(এসপি) জোট।
মুম্বইয়ের পুরভোটে কংগ্রেস এ বার সমঝোতা করেছে দলিত নেতা প্রকাশ অম্বেডকরের দল ‘বঞ্চিত বহুজন অঘাড়ী’(ভিবিএ)-র সঙ্গে। অন্য দিকে, আর এক উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের এনসিপি বিজেপি-শিন্দেসেনা জোটে ঠাঁই না পেয়ে একক ভাবে লড়ছে। ২০২২ সালের জুনে শিবসেনার ভাঙনের পরে এই প্রথম বার বিএমসির ভোট হতে চলেছে। এর আগে ২০১৭ সালে শেষ বার বিএমসির ভোট হয়েছিল। ২২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮৪টিতে জিতে বৃহত্তম দল হয়েছিল উদ্ধবের নেতৃত্বাধীন অবিভক্ত শিবসেনা। ২০১৯ পর্যন্ত বিজেপির সমর্থনে পুরসভা চালালেও সে বছর বিধানসভা ভোটের পর এনডিএ ছেড়েছিলেন উদ্ধব। তার পর কংগ্রেস এবং এনসিপির সমর্থনে পুরসভা চালাচ্ছিল তাঁর দল। কিন্তু মেয়াদ ফুরোনোর পরে ২০২২ সালের মার্চ মাসে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছিল। ২০ বছর পরে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে ‘ঠাকরে-সাম্রাজ্য’ রক্ষায় হাত মিলিয়েছেন উদ্ধব ও রাজ। কিন্তু গণনার প্রাথমিক প্রবণতা বলছে তাতে বিফল হতে চলেছেন প্রয়াত বালাসাহেব ঠাকরের পুত্র ও ভ্রাতুষ্পুত্র।